সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বৃষ্টির জলে উত্তরবঙ্গের তিস্তা ইতিমধ্যেই ফুঁসছে। সঙ্গে যোগ দিয়েছে কালজানিও, তার জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে বলে জানাচ্ছে রাজ্য জলসম্পদ উন্নয়ন ও সেচ দফতর। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস মতোই লাল সতর্কতা মেনে ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে। তার ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই দুর্গতি চলবে ২৮ জুন পর্যন্ত।

পূর্বাভাস মতোই ২৬ জুন, বুধবার কোচবিহারে ৭৬ মিলিমিটার, আলিপুরদুয়ারে, জলপাইগুড়িতে ৪৮.০ মিলিমিটার, কালিম্পংয়ে ৫২.০, দার্জিলিংয়ে ২.৪ বৃষ্টি হয়েছে। এই ব্যাপক বৃষ্টির জেরে তিস্তার মেখলিগঞ্জ এবং তিস্তাবাজারে অঞ্চলে বেড়েছে তিস্তার জল। রাজ্য জলসম্পদ উন্নয়ন ও সেচ দফতর জানাচ্ছে, মেখলিগঞ্জ জল থাকা উচিৎ ৬৩.৭৩ মিটার, সেটা বেড়ে গিয়ে হয়েছে ১৫০ মিটার। বিপদসীমা থেকে মাত্র তিন মিটার তলা দিয়ে বইছে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ মাত্রা ১৫৩ মিটার।

তিস্তাবাজারে জল থাকা উচিৎ ২০৮.৩০ মিটার, সেটা বেড়ে গিয়ে হয়েছে ২১১ মিটার। বিপদসীমা থেকে মাত্র দুই মিটার তলা দিয়ে বইছে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ মাত্রা ২১৩ মিটার। আলিপুরদুয়ারে কালজানি নদীর জল ইতিমধ্যেই বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে।

সকাল সাড়ে ৮টার সময় জলের উচ্চতা ছিল ৪৫.১৫০ মিটার, তখনই হলুদ সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল। সকাল সাড়ে ১১টার সময় সেটাই বেড়ে হয়ে গিয়েছে ৪৫.৭৫০ মিটার। শেষ তথ্য অনুযায়ী সেখানে ০.১০ মিটার বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে জল।

আরও পড়ুন: আশা ভরসা নিম্নচাপ, সম্ভাবনা বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির

হাওয়া অফিসের সতর্কতা ২৭ জুন হিমালয়ের পাদদেশের জেলাগুলিতে অর্থাৎ উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হবে। ৭০ থেকে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পংয়ে। কয়েকটি স্থানে তার চেয়েও বেশি অর্থাৎ ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টির জন্য লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে (৭০-১১০ মিলিমিটার) মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের জন্য। জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। ২৮ জুন অর্থাৎ আগামী ৪৮ ঘণ্টায় কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং-এ ভারী বৃষ্টি হতে পারে। জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ধস নামার আশঙ্কায় সিকিমে।

অপরদিকে দক্ষিণবঙ্গে মৌসুমি বায়ু প্রচণ্ড দুর্বল। শহর থেকে শহরতলির অবস্থা শোচনীয়। বেশিরভাগ সময় অস্বস্তিকর গরমে গলদঘর্ম হতে হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে দক্ষিণবঙ্গে কিছু সময়ের জন্য নিম্নচাপের কারণে সক্রিয় হতে পারে বর্ষা। সেটাও বিশেষ আশাব্যঞ্জক নয়।

তাই আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে দুই থেকে তিন ডিগ্রি বেশী থাকবে বলে জানিয়েছে দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। দক্ষিণবঙ্গের অন্যন্য দক্ষিণবঙ্গের জেলার মতো কলকাতার পারদ চড়ছে সঙ্গে অস্বস্তিকর গরমও হাজির রয়েছে। এদিনের তাপমাত্রা দেখলেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে দুই ডিগ্রি বেশী। সর্বোচ্চ ৩৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে তিন ডিগ্রি বেশি। আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯২ সর্বনিম্ন ৫৭ শতাংশ। বৃষ্টির খাতায় প্রাপ্তি বড় শূন্য।