সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা: গত দু’দিন ধরে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি ১০০ শতাংশ। আষাঢ় মাসের প্রায় মাঝখানে এসে এমন তথ্যই উঠে আসছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর সূত্রে। বর্ষা সবেমাত্র দক্ষিণবঙ্গে পা রেখেছিল তারপরেই উধাও বৃষ্টি উধাও। মৌসুমি বায়ু গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক দুর্বল । তার জেরে ক্রমে স্থায়ী হচ্ছে বৃষ্টি না হওয়া।

কবে যে চাহিদা মতো বৃষ্টি হবে তা বলতে পারছে না আলিপুর আবহাওয়া দফতর। উলটে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে দুই থেকে তিন ডিগ্রি বেশী থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। উলটে দেখা যাচ্ছে দিন কে দিন বেড়েই চলেছে বৃষ্টির ঘাটতি। সারা রাজ্যের হিসাবে দেখা যাচ্ছে তারিখের বিচারে এই সময়ে ১১ শতাংশ বৃষ্টি হলে সেটা স্বাভাবিক। সে সব কিছুই হয়নি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে। এবার পয়লা জুন থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত এই সময়ে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ ২১২.৪ মিলিমিটার, সেখানে বৃষ্টি হয়েছে ৯০.১ মিলিমিটার। সবমিলিয়ে বৃষ্টির ঘাটতি ৫৮ শতাংশ।

সব রেকর্ড ভেঙে প্রচুর দেরী করে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা আসে। ২১ জুন আসে বর্ষা। ২০ থেকে ২৬ জুন এই এক সপ্তাহে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতিও প্রচুর। জেলাভিত্তিক ভাবে দেখা যাচ্ছে বর্ধমানে ৬২ শতাংশ, বীরভূমে ৭৭ শতাংশ, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৪৬ শতাংশ , হাওড়া ৯৭ শতাংশ, হুগলী ৫৬ শতাংশ, কলকাতা ৫০ শতাংশ, মুর্শিদাবাদ ১০০ শতাংশ, উত্তর ২৪ পরগণা ৮৭ শতাংশ, দক্ষিণ ২৪ পরগণা ৮২ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। এই সময়কালে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি ৫২ শতাংশ।

এদিকে অন্যন্য দক্ষিণবঙ্গের জেলার মতো কলকাতার পারদ চড়ছে সঙ্গে অস্বস্তিকর গরমও হাজির রয়েছে। এদিনের তাপমাত্রা দেখলেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে দুই ডিগ্রি বেশী। সর্বোচ্চ ৩৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে তিন ডিগ্রি বেশি। আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯২ সর্বনিম্ন ৫৭ শতাংশ। বৃষ্টির খাতায় প্রাপ্তি বড় শূন্য।

এই সময়েই উত্তরবঙ্গেও দেখা যাচ্ছে জেলাভিত্তিক ভাবে প্রচুর বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বৃষ্টির ঘাটতি যথাক্রমে ৯১ ও ১০০ শতাংশ, মালদহে ৮৭, দার্জিলিংয়ে ৫৮, জলপাইগুড়ি ৫৯, কোচবিহারে ৩২ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। অথচ স্বাভাবিক নিয়ম মেনে দেরীতে হলেও দক্ষিণবঙ্গের আরও দিন চারেক আগে উত্তরবঙ্গে বর্ষা এসেছিল। পাশাপাশি ২৫ তারিখ থেকে উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। তারপরেও ঘাটতি এতো ব্যাপক পরিমাণ। এই সময়কালে পাহাড়ে বৃষ্টির ঘাটতি ৩৮ শতাংশ বলে জানাচ্ছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর।