সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ভরা বর্ষায় বৃষ্টির দেখা নেই। মাসের পর মাস পেরিয়ে যাচ্ছে। ক্যালন্ডার অনুযায়ী বর্ষা প্রায় শেষ। কারণ আজ ২৬ শ্রাবণ। এখনও দক্ষিণবঙ্গ যা কৃষির মূল ক্ষেত্র সেখানে বৃষ্টি প্রায় হচ্ছে না বললেই চলে। ফলে বেড়েই চলেছে ঘাটতির পরিমান।

আবহাওয়াবিদরা বর্ষা শুরুর আগে বলেছিলেন স্বাভাবিক বৃষ্টি হবে এই মরসুমে। বেশি বৃষ্টি হবে দক্ষিণে। উত্তরকে ছাপিয়ে যাবে। কিন্তু কোথায় কী? বৃষ্টির বদলে হচ্ছে বিশ্রী ঘাম যা নাজেহাল করছে মানুষকে। হাওয়া অফিসের অঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী অবশ্য রাজ্যের হাতে ঢের সময় রয়েছে বৃষ্টির এই ঘাটতিকে মেটানোর। তবে কবে থেকে সেই ঘাটতি মেটার বৃষ্টি সেই পূর্বাভাস মিলছে না, কারণ নিম্নচাপ এসেও সরে যাচ্ছে অন্য রাজ্যের দিকে। দেখা যাচ্ছে পয়লা আগস্ট থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি কমলেও এখনো সেখানে ২ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে প্রয়োজনের তুলনায়। অপরদিকে দক্ষিণবঙ্গে এই ১০ দিনে বৃষ্টির ঘাটতি পৌঁছে গিয়েছে ১৭ শতাংশে। জুন থেকে আগস্টের বৃষ্টির হালও সেই একই। এই আড়াই মাসে উত্তরবঙ্গে ৪১ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণে বৃষ্টির ঘাটতি ৭ শতাংশ। ৩০ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত এই সময়ে উত্তরে ৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণে বৃষ্টির ঘাটতি ৩৬ শতাংশ। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে মাস অনুযায়ী বর্ষা ঋতু যত শেষের দিকে এগিয়েছে বৃষ্টির পরিমান না বেড়ে ঘাটতি লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েই চলেছে দক্ষিণে। এর কারণ কী? হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, আগস্ট মাসে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক নিম্নচাপ তৈরি হচ্ছে , কিন্তু তা দক্ষিণবঙ্গ পুরো ঘেঁষে যাচ্ছে না। ফলে সেই বৃষ্টি নেই।

পাশাপাশি বেইমানি করছে মৌসুমি অক্ষরেখাও। উত্তর ছেড়ে সেই এই মরসুমে দক্ষিণ আসতেই চাইছে না। এলেও এক দিন থেকেই মুহূর্তেই পলায়ন। ফল, দক্ষিণের জেলায় ক্রমবর্ধমান বৃষ্টির ঘাটতি। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আরও জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার নাগাদ ফের উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ দানা বাঁধতে চলেছে। কিন্তু সেটিও এ রাজ্যে জোরালো বৃষ্টি দেবে না বলেই খবর মিলছে। ফলে অস্বস্তিই সার।

আবার সোমবার উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে যে নিম্নচাপটি তৈরি হয়, তার অবস্থান অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওডিশা উপকূল ঘেঁষে। ওই নিম্নচাপের প্রভাব থাকবে এই রাজ্যের পশ্চিমের জেলাগুলিতে। সেখানে কয়েকটি জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হবে বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস।

আজ সকাল পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পরিমান দেখলেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বাঁকুড়ায় ০.৭ মিলিমিটার, ব্যরাকপুরে ৫.০ মিলিমিটার, বর্ধমানে ১.৪ মিলিমিটার, ক্যানিংয়ে ১ মিলিমিটার, ডায়মন্ড হারবারে ১.৯ মিলিমিটার, হলদিয়ায় ০.২ মিলিমিটার, পানাগড়ে ৩.৪ মিলিমিটার, শ্রীনিকেতনে ১১.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে এই নিম্নচাপটি ওডিশা ও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে আগামী কয়েকদিন ভালো বৃষ্টি দিতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, এদিকে, ওই নিম্নচাপ অঞ্চল লাগোয়া একটি ঘূর্ণাবর্তও তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মৌসুমি অক্ষরেখাটি ফিরোজপুর, দিল্লি হয়ে ওই নিম্নচাপ এলাকা হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। উত্তরবঙ্গের দুই দিনাজপুর ও মালদহ বাদে উত্তরবঙ্গের বাকি পাঁচটি জেলায় কোথাও কোথাও আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে ২৩.৪ মিলিমিটার, জলপাইগুড়িতে ৮৫.৬ মিলিমিটার, কোচবিহারে ৩৫.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ এটা দক্ষিনের থেকে ইতিমধ্যেই উত্তরে বেশি বৃষ্টি হয়ে তা স্পষ্ট।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও