সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ভাদ্র মাস যে দক্ষিণবঙ্গকে কার্যত খরার রূপ দেখিয়ে দিয়েছে তা বলা যেতেই পারে। বৃষ্টির অভাবে ভুগছে প্রায় সমস্ত জেলাই। স্থানীয় মেঘে কখনও কখনও বৃষ্টির দেখা মিলেছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় কাটছে বৃষ্টি হীনতাতেই। হাঁসফাঁস অবস্থা এই দুই জেলার।

দেঝা যাচ্ছে, পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে ভাদ্রের শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চরমে পৌঁছেছে এই দক্ষিণের সমস্ত জেলার বৃষ্টির ঘাটতি। সবথেকে খারাপ অবস্থা পুরুলিয়া , বাঁকুড়া, হুগলী ও নদিয়ার। এই চার জেলায় বৃষ্টির ঘাটতি যথাক্রমে ৬৩ , ৬৮, ৯০ ও ৬৮ শতাংশ। হাওয়া অফিস যাকে হলুদ রঙে চিহ্নিত করে বলে দিয়েছে অতি কম বৃষ্টি হওয়াকে। দক্ষিণ ২৪ পরগণায় বৃষ্টির ঘাটতি ৬৫ শতাংশ। এই জেলাও রয়েছে অতি কম বৃষ্টির তালিকায়।

বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমানে ঘাটতি যথাক্রমে ৪১, ২১ ও ৪১ শতাংশ। পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া , হুগলী ও উত্তর ২৪ পরগণায় বৃষ্টির ঘাটতি যথাক্রমে ৫৪, ৪৪, ৫৪, ৪১ ও ৩৯ শতাংশ। হাওয়া অফিস এই সমস্ত জেলাকে লাল রঙে চিহ্নিত করেছে। বৃষ্টির ঘাটতি যে কতটা বেশি তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি ৫৫ শতাংশ। সারা বাংলাতেও বৃষ্টির ঘাটতির পরিমান ১১ শতাংশ। মূলত দক্ষিণের ব্যাপক ঘাটতিই রাজ্যের বৃষ্টির পরিমাণকে দমিয়ে দিয়েছে তা স্পষ্ট।

তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে নদিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান এবং মুর্শিদাবাদে। কলকাতা সহ বাকি জেলাতেও মেঘলা আকাশ, বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে। সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে ৭ জেলায়। বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম, বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বভাস রয়েছে।কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই বৃষ্টি। সৌজন্যে অন্ধ্র উপকূলের আসন্ন নিম্নচাপ, যা ঘনীভূত হলেই বড় পরিবর্তন হবে দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলায়।

এদিকে, উত্তরবঙ্গেও বাড়ল বৃষ্টির পরিমাণ। অন্তত বৃহস্পতিবারের তুলনায় শুক্রবার সকালের তথ্য অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে মোটের উপর ভালো বৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন জেলাগুলিতে। বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ প্রভাব ফেলছে উত্তরের জেলাগুলিকে, কারন হাওয়া অফিস আগেই জানিয়েছে ওই নিম্নচাপ দক্ষিণবঙ্গের উপর যেমন প্রভাব ফেলবে তেমনই প্রভাব ফেলবে উত্তরবঙ্গের উপরেও।

সেই অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে আজ সকাল পর্যন্ত কোচবিহারে ২৫.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। দার্জিলিঙে ৫.১ মিলিমিটার, জলপাইগুড়িতে ২০.৮ মিলিমিটার, কালিম্পঙে ৭.০ মিলিমিটার, , মালদহে ২৩.৪ মিলিমিটার, শিলিগুড়িতে ১৪.০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।