সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বড়দিনে আগে হু হু করে বাড়ছে কেকের দাম। এমনটাই জানা যাচ্ছে কলকাতার বেকারিগুলির সূত্রে। মূল্য বৃদ্ধির জেরে সবকিছুরই দাম বেড়েছে। পাশাপাশি যারা কেক তৈরি করছেন তাদেরও টাকা বৃদ্ধি করতে হয়েছে। সবমিলিয়ে এই বছর কেকের দাম বৃদ্ধি করতে বাধ্য হচ্ছে কলকাতার বেকারি সংস্থাগুলি।

ব্রিটিশরা এদেশে আসার কিছু সময় পর থেকেই ক্রিসমাস পালনের আঁচ পড়েছে কলকাতায়। এখন ক্রিসমাসও বাঙালির অন্যতম পার্বণ। এই ক্রিসমাস আবার কেক ছাড়া জমে না। ফ্রুট কেক, চকলেট কেক কিংবা নাট কেক হরেকরকম কেকের চাহিদা। বেকারি সংস্থাগুলিও নেমে কেকের সম্ভার নিয়ে। অনেক সংস্থা ক্রিসমাস স্পেশ্যাল হিসাবে কেকের নতুন ধরনের পদও তৈরি করেন। কিছু না হলে এখন ইউটিউব দেখেও অনেকে বাড়িতেই কেক তৈরি করে ফেলেন। এক কথায় কেক ছাড়া বড়দিন হয় না। এই কেক কিনতে গিয়ে এই বছর গ্যাঁট গচ্ছা বেশি হবে বলেই জানাচ্ছেন কলকাতার বিখ্যাত বেকারির মালিক থেকে কর্তৃপক্ষ।

১০০ বছরের পুরনো কলকাতার ওয়েলিংটন চত্বর থেকে একটু এগিয়েই তালতলা অঞ্চলের বরুয়া বেকারি। সারা বছর টিফিন কেক বানায় এই বেকারি সংস্থা। কিন্তু ক্রিসমাসের সময় স্পেশ্যাল কেক বানানো হয়। সংস্থার দাবি, তাঁরা ‘সস্তায় পুষ্টিকর’ কেক পরিবেশন করেন। তাদের সংস্থার খরিদাররা অন্য কোনও সংস্থার কেক খেতেও চান না। ক্রিসমাস মানে এখনও অনেকের কাছেই বরুয়া বেকারির ফ্রুট কেক।

সংস্থার বর্তমান দায়িত্ব অনেকটাই সৌরভ বড়ুয়ার উপর। তিনি বলেন, “এমনিতে আমরা আমাদের প্রোডাক্টের দাম বাড়াই না। কিন্তু এই বছর কিছু করার নেই। কস্ট অনেকটা বেড়েছে তাই কেকের দাম এই বছর অন্তত ২০ টাকা বেশি হবে বলেই জানাচ্ছে বরুয়া বেকারি। তাদের একটি ফ্রুট কেকের গত বছর দাম ছিল সর্বোচ্চ , ১০০ টাকা সেটি এই বছর ১১০ টাকা করা হয়েছে। বড় কেকের দাম ছিল ২০০ টাকা সেটাই ২২০ তাক

নাহৌমস কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, “দু পাঁচ টাকা বাড়িয়ে লাভ নেই। অন্তত ১৫ টাকা না বাড়ালে লেবারদের টাকা দিতে পারব না।” একইসঙ্গে তাঁরা এও জানাচ্ছেন, “শতাব্দী প্রাচীন আমাদের কেকের দোকান। সেখান থেকে যারা কেক কেনে তাঁরা জানেন আমাদের তৈরি কেকের স্বাদ। একটু বেশি হলে আমাদের মনে হয় না কেউ কেক না কিনে চলে যাবে।”

সালধানা বেকারিও জানাচ্ছে একই কথা। তাদের কর্তৃপক্ষের কথায়, “আমরা ফ্রুট কেক, ওয়ালনাট কেক এবং সাধারণ কেক বানাই । গত বছর এই কেক গুলির দাম ছিল যথাক্রমে ৩০০, ২৮০ এবং ২৪০ টাকা প্রতি কেক। এই বছর কুড়ি টাকা করে বাড়াতে হয়েছে। এই বছর সালধানার স্পেশ্যাল কেকগুলি খেতে হলে ৩২০,৩০০ এবং ২৬০ টাকা কেক প্রতি দিতে হবে। সালধানারা জানাচ্ছেন , “সময়ের সঙ্গে দাম বাড়াতে হয়েছে। তবে একসঙ্গে ২০ টাকা বাড়ানোর কারণ মার্কেট প্রাইস। আমাদেরও কিছু লাভ রাখতে হবে। না হলে ব্যবসা চলবে কিভাবে!”