হায়দরাবাদ: সমাজে বিভেদ করতে চাইছে সন্ত্রাসবাদ। যা রুখতেই হবে। সেই উদ্দেশ্যেই গির্জায় গিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুসলিম ধর্মগুরু সহ একাধিক ইসলাম ধর্মের মানুষেরা।

চলতি সপ্তাহে এমনই ঘটনার সাক্ষী থেকেছে নিজামের শহর হায়দরাবাদ। ওই শহরের নামাপল্লি এলাকায় ১৬৫ বছরের পুরনো গির্জায় পদধূলি পরেছিল মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু মানুষের। যাদের মধ্যে ছিলেন প্রায় জনা তিরিশেক ধর্মগুরু বা মৌলবী।

ধর্মের নামে চলতে থাকা সন্ত্রাসকে প্রতিহত করতে ইসলামে নিষিদ্ধ কাজ করতেও পিছপা হলেন না মৌলবীরা। ইসলাম অনুসারে কোনও অমুসলিমদের উপাসনাস্থলে যাওয়া নিষেধ মুসলিমদের। কিন্তু গিরজায় গিয়েছেন একদল মুসলিম, সঙ্গে রয়েছেন ধর্মগুরুরাও।

‘সন্ত্রাসের কোনও ধর্ম হয় না’, এই বার্তা দিতেই গির্জায় হাজির হয়েছেন মুসলিমরা। এই বার্তাটা সমাজের সকল স্তরে পৌঁছে দেওয়াটাই তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য। এই লক্ষ্য পূরণে হায়দরাবাদের সেন্ট জর্জ গির্জায় হাজির হয়েছিলেন ১৫০ জন মুসলিম ব্যক্তি। মুসলিম ধর্মগুরুরা গিরজায় বক্তব্যও রেখেছেন। তাঁদের বক্তব্য, “সন্ত্রাসবাদীরা আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়। কিন্তু আজ আমাদের উচ্চস্বরে এবং স্পষ্ট ভাষায় বলতে হবে যে আমরা এক সঙ্গে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। এভাবেই আমরা সর্বদা ভালোবাসা এবং সৌভাতৃত্ব ছড়িয়ে যাব।”

গত ইস্টার রবিবারে শ্রীলঙ্কায় একাধিক গির্জায় হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। গির্জা ছাড়াও হামলা চালানো হয় অনেক হোটেলে। দ্বীপ রাষ্ট্রের ওই ঘটনায় মৃত্যু হয় বহু মানুষের। হামলাকারীদের আক্রমণের লক্ষ্য ছিলেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষেরা। শ্রীলঙ্কা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে ইসলামিক জঙ্গি গোষ্ঠী এই হামলা চালিয়েছে। এরপর থেকেই মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ দেখা দিয়েছে সমগ্র শ্রীলঙ্কা জুড়ে। অনেক মুসলিম মানুষ ঘর ছাড়া হয়ে রয়েছেন।