স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: সাধারণ মানুষকে মিষ্টি হাব মুখী করতে এবার মিষ্টি হাবেই প্রথমবার জেলা প্রশাসন এবং মিষ্টি ব‌্যবসায়ীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে মিষ্টি উত্সব। আগামী ১৬ থেকে ২২ জানুয়ারী বর্ধমানের ২নং জাতীয় সড়কের উল্লাস মোড়ের কাছে মিষ্টি হাব প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠান হতে চলেছে।

মিষ্টি উত্সব নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করতে গিয়ে জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, এখনও এব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত না হলেও তাঁরা চেষ্টা চালাচ্ছেন। ব্যাপক প্রচার করা হচ্ছে মিষ্টি উত্সব এবং মিষ্টি হাবকে নিয়ে। তাঁদের আশা মিষ্টি হাব চালু হতে খুব বেশি সমস্যা হবে না। পাশাপাশি তাঁরা চেষ্টা করছেন মিষ্টি হাবের জন্য বাসস্টপ করার।

জেলাশাসক এদিন জানিয়েছেন, এই মিষ্টি উত্সবে থাকছে বিভিন্ন মিষ্টি প্রস্তুতির বিশেষ প্রদর্শনী, বিভিন্ন মিষ্টির বিভিন্ন অজানা তথ্যের বিশেষ গ্যালারী, মিষ্টি সংক্রান্ত বিশেষ ক্যুইজ ও পুরষ্কার, মিষ্টি তৈরীর বিশেষ তথ্য চিত্র প্রদর্শনী ছাড়াও কেনাকাটার ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড়।

জেলাশাসক আরও জানান, মিষ্টি হাবকে আকর্ষণীয় করে তুলতে বর্ধমান শহরের বিভিন্ন শপিং মলগুলিতে স্ক্র্যাচ কার্ড দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৫ হাজার এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে মিষ্টি উত্সবের দিনগুলিতে মিষ্টি হাবে গিয়ে ১০ শতাংশ থেকে সর্বাধিক ৫০ শতাংশ কেনাকাটায় ছাড় পাবেন খদ্দেররা। জানা গেছে, এছাড়াও যাঁরা সরাসরি এই উত্সবের দিন সেখানে যাবেন তাঁদেরও দোকানদারদের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ছাড় দেবার কথা ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে। এব্যাপারে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের কাছে আবেদনও জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, প্রায় বছর দুয়েক আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় তাঁর স্বপ্নের এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। কিন্তু তার কিছুদিন পর থেকেই ক্রমশই ধুঁকতে থাকে মিষ্টি হাবের ব্যবসা। ইতিমধ্যে মিষ্টি হাবের প্রথম তলার পর দ্বিতীয় তলার কাজও সম্পূর্ণ হয়। এখানে রয়েছে মোট ২৫টি দোকানও। মূলত মিষ্টি হাবকে চাঙ্গা করতেই এবার এই মিষ্টি উত্সবের অভিনব উদ্যোগ নিলেন জেলা প্রশাসন।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে হাজির ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, সহকারী সভাধিপতি দেবু টুডু ছাড়াও অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) অরিন্দম নিয়োগী এবং মিষ্টি হাবের ব্যবসায়ীরাও।

পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক এদিন বলেন, মিষ্টি হাবের এই মিষ্টি উত্সবে থাকছে আগতদের মনোরঞ্জনের জন্য একাধিক ব্যবস্থা। উল্লেখ্য, বর্ধমান শহর ছাড়িয়ে বেশ কিছুটা দূরে ২নং জাতীয় সড়কের ধারে এই মিষ্টি হাব তৈরী হওয়ায় কার্যত খরিদ্দারের অভাবে ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্বোধনের পরই বন্ধ হয়ে যায় মিষ্টি হাব। মুখ্যমন্ত্রী বর্ধমানের সীতাভোগ, মিহিদানা, ল্যাংচা প্রভৃতি মিষ্টিকে আরও প্রচারে নিয়ে আসতে এই মিষ্টি হাবের পরিকল্পনা তৈরী করেছিলেন। ঘোষণাও করেছিলেন বর্ধমানের এই মিষ্টি হাবেই মিলবে বর্ধমান জেলার বিখ‌্যাত সেইসব মিষ্টি ছাড়াও আশপাশের অন্যান্য জেলার মিষ্টিও থাকবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাই সার হয়ে দাঁড়ায়।

যেহেতু ক্রেতারা আসেননি তাই বন্ধ খোলার কয়েকদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বারবার তাঁরা জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন মিষ্টিহাবের জন্য দূরপাল্লার এবং রুটের বাসগুলির একটি স্টপেজ করা হোক। ঠিক যেমনটা আছে শক্তিগড়ে। যার জেরে শক্তিগড়ের ল্যাংচা ব্যবসা রমরমা হয়ে উঠেছে। ঠিক সেইরকমই ব্যবসায়ীরা চেয়েছিলেন মিষ্টি হাবের জন্যও সরকারি ও বেসরকারি বাসের স্টপেজ থাকলে ক্রেতার সমস্যা হবে না। কিন্তু কার্যত ২ বছর ধরেও ব্যবসায়ীদের সেই দাবি মেটেনি। তবে এবার সেই সমস্যা মিটতে চলেছে বলে খবর৷