সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : গিলে গিলে গিলে গিলে খাবো তোকে। ঘচাং ফু। নবমীর সকাল থেকে পাঁঠার মাংসের দোকানে দোকানে বিপুল লাইন দেখে করোনা সেই কথা বলতেই পারে। সে বলতেই পারে , ‘তোরা পাঁঠা খাবি, আমি তোকে খাবো’।

শনিবারে গ্রাম থেকে শহর দেখা গিয়েছিল বিপুল ভিড়ের বহর। এবার পাঁঠা খাওয়ার বহর। কিছু না হোক পাঁঠা আজ খাওয়া চাই। সে যাই হয়ে যাক। মুখে নেই মাস্ক,দূরত্ব-বিধি শিকেয়,নবমীতে গ্রামীণ হাওড়ার বিভিন্ন জায়গায় খাসি কেনার লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে। একই চিত্র দেখা গিয়েছে বেহালা থেকে বালিগঞ্জ সর্বত্র।

ভোজনরসিক বাঙালিকে নবমীতে মাংস খাওয়া কবে কে শিখিয়েছিল তার হদিস না মিললেও নবমীর ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই হাওড়া কলকাতার বিভিন্ন মাংসের দোকানের সামনে লম্বা লাইন চোখে পড়েছে। খাসির মাংসের দোকানের সামনে লাইনের আকার দেখে অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগবে, ‘করোনা নামক কোনও ভাইরাস আদৌ কোনওকালে বাংলায় হানা দিয়েছিল কিনা! এদিন সেরকমই ছবি ধরা পড়েছে। আমতা,উলুবেড়িয়া,বাগনান থেকে শুরু করে ইকবাল , জনির দোকানে।

 

সব জায়গাতেই ছবিটা কমবেশি প্রায়। ভোর থেকে খাসির মাংসের দোকানের সামনে লম্বা লাইন উৎসুক ভোজনরসিক মানুষের। সেই লাইনে পারস্পরিক দূরত্ব তো দূরের কথা, সিংহভাগ মানুষের মুখে মাস্কেরও দেখা মেলেনি। চিকিৎসক,নার্স,স্বাস্থ্যকর্মী,পুলিশ,আমলা সহ একশ্রেণীর মানুষ যখন বুক চিতিয়ে অতিমারীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন,তখন ভোজনরসিক বাঙালির এহেন মানসিকতার পরিচয় সত্যিই যে অনভিপ্রেত তা দ্ব্যর্থ ভাষায় বলাই যায়। আর এসব দেখেই পুজোর পর বাংলায় করোনার কী পরিস্থিতি হতে চলেছে তা নিয়ে অনেকেই ইতিমধ্যেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে রাজ্যে প্রত্যেকদিন চার হাজারে্র কাছাকাছি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। দু’দিন মেনেও বাঁধ ভাঙল অষ্টমীতে। একই ছবি দেখা গিয়েছে উত্তরের বাগবাজার থেকে শুরু কর দক্ষিণের একডালিয়া এভারগ্রিন পর্যন্ত। শনিবার পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮৬৫ জন। এবং সুস্থ হয়েছেন ৩১৮৩ জন। শনিবার রাজ্যে সুস্থতার হার ছিল ৮৭.‌৬৬ শতাংশ। যেখানে শুক্রবার তা ছিল কিছুটা বেশি— ৮৭.‌৭৩ শতাংশ।

ওইদিনের হিসেব অনুযায়ী রাজ্য করোনা আক্রান্ত মোট ৬১ জনের মৃত্যু হয়। তার মধ্যে ১৫ জন উত্তর ২৪ পরগনার আর ১৫ জন কলকাতার বাসিন্দা। এদিনও নতুন করোনা আক্রান্ত ও সুস্থতার দিক থেকে এগিয়ে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা। এদিন কলকাতার ৭৮৪ জন নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন আর সুস্থ হয়েছেন ৬০৮ জন। আর উত্তর ২৪ পরগনায় গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯২ জন আর সুস্থ হয়েছেন ৬১৭ জন।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।