স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা : সারা রাজ্য জুড়ে শুক্রবার থেকে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। সেই তথ্যই দিচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সব জেলাতেই প্রচুর পরিমানে বৃষ্টি হয়েছে। সেটাই জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। যেমন বাগাতিতে বৃষ্টি হয়েছে ১৫.৪ মিলিমিটার, বাঁকুড়ায় বর্ষা আসেনি তারপরেও দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা আগমনের প্রভাবে বৃষ্টি হয়েছে ১৯.৬ মিলিমিটার।

বারাকপুর ২৮.৮ মিলিমিটার, বর্ধমানে ৫৭.০, ক্যানিংয়ে ১৬.৮ মিলিমিটার। কাঁথিতে ২২ মিলিমিটার, দার্জিলিং-এ ৭৬.৮ মিলিমিটার, ডায়মন্ড হারবারে ৩০.৬ মিলিমিটার, দিঘায় ১২.৭ মিলিমিটার, দমদমে ৪৩.০ মিলিমিটার, হলদিয়ায় ২৫.৪ মিলিমিটার, কালিম্পঙে ৩৫.০ মিলিমিটার, মালদহে ২২.৭ মিলিমিটার, মেদিনীপুরে ১৮.২ মিলিমিটার। পুরুলিয়াতেও বর্ষা না এসেই ৫৭.০ মিলিমিটার, সল্টলেকে ৩৩.৮ মিলিমিটার, শ্রীনিকেতনে ১১.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নামল স্বাভাবিকের পাঁচ ডিগ্রি নিচে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হল স্বাভাবিক। অস্বস্তিকর গরম যে বৃষ্টি কমিয়েছে তা স্পষ্ট। আজ শনিবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিক। শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে পাঁচ ডিগ্রি কম। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৫১.০ মিলিমিটার। রাত সাড়ে আটটা থেকে ৫০.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে আজ সকাল পর্যন্ত। আর্দ্রতার পরিমান সর্বোচ্চ ৯৭ সর্বনিম্ন ৮৭ শতাংশ।

এদিন ভোর হতেই ঝেঁপে বৃষ্টি হয় ছয় জেলায়। এদিন ভোরে ৫.৪৫ নাগাদ আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানায় হাওড়া , কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, পূর্ব মেদিনীপুর, নদীয়ায় ভারী বৃষ্টি হবে। এর মিনিট খানেকের মধ্যেই ঝেঁপে বৃষ্টি শুরু হয়ে ওই সমস্ত জেলায়। পরে পশ্চিমের জেলা বাঁকুড়া, পুরুলিয়াতেও একচোট বৃষ্টি হয়। তবে এখানে এখনও বর্ষা আসেনি। তাও আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পূরণ হয়ে যাবে।

এদিন ভোরবেলা সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। মেঘলা আকাশে জেলায় জেলায় শুরু হয় ঝেঁপে বৃষ্টি। তবে ঝড়ো হাওয়া ছিল। কারণ এবার কেবলই বৃষ্টির পালা। পূর্বাভাস মেনে আজ শনিবার সকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গের আকাশে মেঘের আনাগোনা ছিল। পরক্ষনেই শুরু হয় মেঘ গুড়গুড়। এই বৃষ্টির পরিমান ক্রমে বাড়বে বলে জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।

প্রসঙ্গত শুক্রবার নির্ঘণ্ট মেনে সঠিক সময়ে রাজ্যে আসে বর্ষা। দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় একসঙ্গে আগমন হয় বর্ষার। হাওয়া অফিস জানিয়েছে দক্ষিণবঙ্গের হাওড়া, কলকাতা, দুই ২৪ পরগণা, হুগলী, নদীয়া, দুই মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব বর্ধমানে এসেছে বর্ষা।

উত্তরবঙ্গের কোচবিহার , জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, কালিম্পং, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহে এসেছে বর্ষা। এমনটাই জানায় আলিপুর আবহাওয়া দফতর। গত বছরে ২১ জুন এসেছিল বর্ষা। এই মরসুমে আমফানের ঠেলায় তা আর দেরি না করে একদম সঠিক সময়েই রাজ্যে প্রবেশ করল বলে জানাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। তবে এটাও লক্ষণীয় ১২ জুন, জ্যৈষ্ঠ শেষ হতে এখনও দিন তিনেক দেরী। এমন সময়েই চলে এল বর্ষা।

‘নর্দান লিমিট অফ মনসুন’ বা ‘এনএলএম’ অবস্থান করছে ১৮ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৬০ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ, ১৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ , ৭০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। যাচ্ছে হরনাই, বরামতি, বিড, ওয়ারধা, রাইপুর, সম্বলপুর, বারিপদা, বর্ধমান শিলিগুড়ির ২৭ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৭.৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ দিয়ে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বর্ষা ঘিরে ফেলবে সম্পূর্ণ পশ্চিমবঙ্গকে।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও