সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ‘দুলছে হাওয়ায় , না না না ফুল নয়, দখিনা বাতাসে নাগপাশে সময় নয়, খোলা বারান্দায়, এই নির্জনতায়,সিলিংয়ের বন্ধনে, মাটির ব্যাবধানে, দুলছে স্খলিত বসনা’। বিখ্যাত নচিকেতার নীলাঞ্জনা গানের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে ভাটপাড়ার এই চিত্র। হাজারও মানুষের হাতের ছোঁয়া পাওয়া প্লাস্টিকের গ্লাভস যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে রয়েছে। দুপুরের হালকা বাতাসে তা উড়ে বেড়াচ্ছে এদিক ওদিক। কারও কোনও খেয়াল নেই।

কেন এমন ঘটছে, তা বলা মুশকিল। কিন্তু এমন ঘটনা ঘটেছে ভাটপাড়ায়। নির্বাচন কমিশন ভোট দেওয়ার সময়ে হাতে গ্লাভস পরিয়ে ভোট দেওয়াচ্ছে। ফেরার পথে ডাস্টবিনে তা হাত থেকে খুলে ফেলে দিতে হচ্ছে। কোনওভাবে সেই বিন উলটে গিয়েছে বা এমনই কিছু একটা হয়েছে বা ওই কেন্দ্রে বিন নেই। মানুষ ভোট দিয়ে রাস্তায় গ্লাভস ফেলে গিয়েছেন।

আর ? দখিনা বাতাস বইছে। আর এই হাওয়া লেগে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে হাজারও মানুষের হাতের ছোঁয়া পাওয়া সেই সব প্লাস্টিকের গ্লাভস। মানুষের গায়ে লাগছে, গরুতেও চিবোচ্ছে। করোনার এই ভয়ঙ্কর সময়ে এই চিত্রই দেখা গেল ভাটপাড়ার আর্য সমাজ রোডের ভোট কেন্দ্রের রাস্তায়।

মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছে। শারীরিক দূরত্ব যথারীতি নেই। বন্দুক হাতে টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কারও কোনও খেয়াল নেই। বেখেয়ালি হাওয়ায় না জানে ছড়িয়ে পড়ছে কী না কী। বলার নেই, কিছু করার নেই। শুধু দেখার আছে। প্রশ্ন উঠছে আর কবে? আর কত সমস্যা বাড়লে মানুষের মনে সত্যিকারের সচেতনতা ফুটে উঠবে। উত্তর নেই। প্রশ্ন রয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, গতকাল পর্যন্ত সারা রাজ্যে ১০ হাজার ৭৮৪ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গিয়েছেন আরও ৫৮ জন। এখনও পর্যন্ত এটাই বাংলায় একদিনে সর্বোচ্চ করোনা সংক্রমণ। এদিনের পর রাজ্যে মোট সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে হল ৬ লক্ষ ৮৮ হাজার ৯৫৬ জন।

কলকাতায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়িয়েছে। মোট আক্রান্ত একদিনে ২৫৬৮ জন। মারা গিয়েছেন ১৩ জন। উত্তর ২৪ পরগনায় একদিনে সংক্রমিত ২১৪৯ জন। মারা গিয়েছেন সবচেয়ে বেশি ১৪ জন।দক্ষিণ ২৪ পরগনায় একদিনে ৬৪৬ জন, হুগলিতে ৫২৩ জন, হাওড়ায় ৬২৬ জন, পূর্ব বর্ধমানে ২৯৬ জন, পূর্ব মেদিনীপুরে ৩২৯ জন, নদিয়ায় ৩৯০ জন, বীরভূমে ৫৮০ জন, মালদহে ৪৫৪ জন, মুর্শিদাবাদে ৪৬২ জন এবং পুরুলিয়ায় ২৯৪ জন। বাংলায় একদিনে সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৬১৬ জন। এখন রাজ্যে সুস্থতার কমে হয়েছে ৮৯.২৩ শতাংশ।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.