নয়াদিল্লি: এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। অন্যান্য সমস্ত কাজকর্মের মতোই বন্ধ রয়েছে স্কুল-কলেজ সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে সিলেবাস শেষ হবে কি করে? দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেক বাবা-মা ই। তাই শিক্ষক অভিভাবক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশেষ গাইডলাইন দিল কেন্দ্র। শনিবার এই গাইডলাইন ঘোষণা করেছে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক।

একটি বিকল্প ক্যালেন্ডার তৈরি করে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। যাতে লকডাউনের মধ্যে বাড়িতে বসেই সিলেবাস ঠিক সময়ে শেষ করা যায়।

কেন্দ্রে তরফ থেকে এই গাইডলাইনে লেখা হয়েছে, স্কুল-কলেজ এবং ইউনিভার্সিটি বন্ধ। ফলে ছাত্রছাত্রীরা বাড়িতে আটকে আছে। শিক্ষকেরাও বুঝতে পারছেন না কিভাবে পড়ানো যেতে পারে। তাই এই লকডাউনের পরিস্থিতিতেও ছাত্র-ছাত্রীদের যাতে শিক্ষা কাজে ব্যস্ত রাখা যায় সেই জন্যই এই ক্যালেন্ডার তৈরি করা হয়েছে।”

কেন্দ্রের তরফ থেকে একথা জানানো হয়েছে যে হোমওয়ার্ক বা হোম অ্যাসাইনমেন্টে বিশ্বাস করেনা কেন্দ্রীয় মন্ত্রক। কারণ তাতে শিক্ষার আনন্দের থেকে বেশি কাজ শেষ করার তাড়া থাকে। তাই অন্যভাবে পড়াশোনাতে জোর দিতে চাইছে কেন্দ্র। যাতে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের উপর চাপ না পড়ে, অথচ তারা সিলেবাস শেষ করে ফেলতে পারে।

কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী ডক্টর রমেশ পোখরিয়াল এদিন ট্যুইট করে বলেন, “চ্যাপটার উল্লেখ করে সপ্তাহ হিসেবে এই ক্যালেন্ডার তৈরি করা হয়েছে।” এই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্ল্যানিং করা যাবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

কোভিড ১৯-এর মোকাবিলায় চলা লকডাউন পর্ব শেষ হলে তাই স্কুলগুলির ক্লাসরুমেও চালু হবে নতুন নিয়ম। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে এমনই জানিয়েছে মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক। এই নিয়মগুলি মন্ত্রকের স্কুল এডুকেশন অ্যান্ড লিটেরেসি দফতর তৈরি করেছে।

মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল জানাচ্ছেন, স্কুল কলেজ বা অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি যখনই আবার খুলুক, সেখানে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং চালিয়ে নিয়ে যেতে হবে। পড়ুয়াদের সুরক্ষার্থেই এই নিয়ম মানতে হবে।

এতদিন ক্লাসরুমে যে ভাবে পড়ুয়ারা বসত তার থেকে পরিবর্তন হবে। সোশ্যাল ডিসট্যান্স বজায় রাখতে কতটা দূরত্বে এবং কীভাবে বসার ব্যবস্থা করা হবে তা নি.এ আলোচনা চলছে। সাধারণত একটি ক্লাসরুমে ৩০ থেকে ৪০ পড়ুয়া বসার ব্যবস্থা থাকে। বেশির ভাগ স্কুলেই ২ জন করে পড়ুয়া বেঞ্চ ডেস্কে বসে। আবার বেঞ্চের দৈর্ঘ্য লম্বা হলে তার থেকে বেশি সংখ্যক পড়ুয়াও বসে।

অতএব সোশ্যাল ডিসট্যান্স বজায় রাখার সঙ্গে সঙ্গে স্কুলে কতজন পড়ুয়া বসতে পারবে সেদিকেও নজর দেওয়া উচিত। পর্যাপ্ত পরিমাণে জায়গার অভাবের জন্যই সোশ্যাল ডিসট্যান্স বজায় রেখে লকডাউনের আগের মতো করে ক্লাস চলবে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

কেন্দ্রের দেওয়া গাইডলাইন রয়েছে এই লিংকে: ৱhttp://ncert.nic.in/aac.html

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব