হাওড়া: বেঙ্গালুরুতে শিশু সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আটকে পড়েছে হাওড়ার সালকিয়ার এক পরিবার৷ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ফেরানোর আর্জি জানাল ওই পরিবার৷

করোনা মোকাবিলায় মঙ্গলবার রাত থেকে প্রধানমন্ত্রীর সারা দেশে লকডাউনের ঘোষণার ফলে থমকে গিয়েছে ট্রেনের চাকা৷ বন্ধ হয়ে গিয়েছে উড়ানও৷ ফলে হাওড়ার বাড়িতে ফিরতে পারছেন না এই পরিবার৷ টানা ২১ দিন সারা দেশে লকডাউন৷ ফলে দু-একদিন পর স্বাভাবিকভাবে ফেরার সম্ভাবনা নেই৷ তাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বাড়ির ফেরানোর বিশেষ আর্জি জানিয়েছে সালকিয়ার এই পরিবার।

৬ জনের এই পরিবার হাওড়ার সালকিয়ার ত্রিপুরা রায় লেনের বাসিন্দা। বেঙ্গালুরু থেকে ওই পরিবারটি জানিয়েছে, তারা গত ১১ মার্চ সেখানে গিয়েছেন৷ সেখানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা হয় তাঁদের শিশু। ২০ তারিখ চিকিৎসার পর ২১ তারিখের ট্রেনে বাড়ি ফেরার টিকিট কনফার্ম ছিল। কিন্তু রবিবার রাতে ‘জনতা কার্ফু’র পর ফের সোমবার থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই আটকে পড়েন ওই পরিবার।

কয়েকদিনের জন্য সেখানে থেকে প্রথমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কথা ভেবেছিল এই পরিবারটি। কিন্তু পরে সেই লকডাউন বেড়ে টানা ২১ দিন হয়ে যাওয়ায় মারাত্মক অসুবিধার মধ্যে পড়েছে। আস্তে আস্তে তাঁদের হাতে টাকাপয়সাও কমে এসেছে। ফলে পরিবারটির আবেদন তাদের যেভাবেই হোক হাওড়ার বাড়িতে যেন ফেরার বন্দোবস্ত করা হয়। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এ নিয়ে আবেদন জানিয়েছে সালকিয়ার এই পরিবার।

করোনায় দেশজুড়ে লকডাউনের ফলে ভিনরাজ্যে আটকে পড়েছেন বাংলার বহু শ্রমিক। এই পরিস্থিতিতে বাংলার শ্রমিকদের খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আর্জি জানিয়ে ১৮ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি এদিন দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লকডাউনের পরিস্থিতিতে শুধু ভিন রাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিকরাই নন, তাঁদের পরিবারও যথেষ্ট উদ্বেগে রয়েছে।

একথা ভেবেই বৃহস্পতিবার ওড়িশা, বিহার, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, কেরালা, তেলেঙ্গানা, হিমাচল প্রদেশ, পঞ্জাব, উত্তরাখন্ড, দিল্লি, ঝাড়খণ্ড, রাজস্থান, গুজরাত, ছত্তিসগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ ও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘বাংলার শ্রমিকরা আটকে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের ফিরে আসারও কোনও উপায় নেই। তাই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে তাঁরা যাতে নিরাপদ আশ্রয়, পর্যাপ্ত খাবার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পান, আপনাদের কাছে তার আবেদন জানাচ্ছি।’