স্টাফ রিপোর্টার , হাওড়া : হাওড়ায় চলছে প্রণব স্মরণ। হাওড়ার বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বিভিন্ন যোগ। কেন্দ্রের রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও বাংলার বহু এল্কার কাছের মানুষ ছিলেন সদ্য প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। হাওড়া তাঁর বিশেষ কাছের জেলা ছিল। তাই তাঁর মৃত্যুর শোক এখনও ভুলতে পারেনি ওই জেলার বহু গ্রামের মানুষ, কখনও গিয়েছেন সামান্য মন্দির উদ্বোধনে, কখনও সারা দিয়েছেন স্কুলের শতবর্ষের অনুষ্ঠানে। নির্দিষ্ট দিনে পারলেও অনেক সময়ে পড়ে গিয়ে আলাদা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সেখানকার মানুষের আশা পূরণ করেছেন। তাই সেখানে এখনও চলছে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং তাঁর স্মৃতি চারনা।

যেমন তাজপুর। ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর আমতায় এসে ‘মাস্টারমশাই’ বলেছিলেন আবার তিনি আসবেন। তাঁর অপেক্ষাতেই ছিলেন তাজপুরের মানুষ। কিন্তু তাঁর আর আশা হয়নি। সেই আক্ষেপই রয়ে গেল তাজপুরের ঘরে ঘরে। তাজপুর জুড়ে আজও শোকের ছায়া। ১৯৫৭ সালের ফেব্রুয়ারীতে তাজপুর এম.এন রায় ইন্সটিটিউশান থেকেই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ভাড়া থাকতেন চক্রবর্তীদের বাড়িতে। চক্রবর্তী বাড়ি জুড়ে এখনও নিস্তব্ধতা আর শোকের ছায়া। চক্রবর্তী বাড়িতে প্রণব বাবুর ছবিতে মাল্যদান করেন পরিবারের সদস্যরা। পাঠ করা হয় গীতা। প্রণব বাবুর রচিত কবিতা পাঠ করে শোনান পরিবারের সদস্য গোলক চক্রবর্তী।

প্রণব বাবুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাজপুরের এম.এন রায় ইন্সটিটিউশানের জাতীয় পতাকাকে অর্ধনমিত রাখা হয়।দশম শ্রেণীর গুটিকয়েক পড়ুয়াকে নিয়ে এদিন বিদ্যালয়ে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের পাশাপাশি ২০১৭ সালের সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করেন পড়ুয়ারা। ওই স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র তথা আমতা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুকান্ত কুমার পাল, প্রধান শিক্ষক পৃথ্বীশ কুমার সামন্ত সহ অন্যান্যরা।

আবার ডোমজুড় রাঘবপুর ২৬ শে পৌষ “কালী মাতা পূজা সমিতি”। সেখানেও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও ভারত রত্ন শ্রদ্ধেয় প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আত্মার শান্তি কামনায় এক ক্ষুদ্র স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। এই ছোট্ট সভা অনুষ্ঠিত হয় ২৬পৌষ নব নির্মিত কালী মন্দিরেই। ২৪জুলাই, ২০১৯ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শ্রদ্ধেয় প্রণব মুখোপাধ্যায় এই ঐতিহাসিক কালী মন্দিরে পদার্পণ করেন ও ইতিহাস রচনা হয় ডোমজুড়, রাঘবপুর, মাকড়দহ অঞ্চলের বুকে ২৬ শে পৌষ কালী মন্দিরে।

“কালীমাতা পূজা সমিতির” সভাপতি বিশ্বনাথ পাড়ুই ও সম্পাদক দেবীপ্রসাদ দাস জানিয়েছেন যে ওনারা খুব ই মর্মাহত এই শোক সংবাদ পাবার পর এবং ওনারা প্রণব বাবুর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন ও ওনার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। “কালীমাতা পূজা সমিতির” যুগ্ম সহঃ সম্পাদক সুশান্ত ঘোষ ও রাধাকান্ত পাড়ুই জানান যে আগামী কয়েকদিন প্রণববাবুর প্রতিকৃতি মন্দির প্রাঙ্গণে থাকবে, যারা ওনার প্রতিকৃতি তে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করতে চান তারা সবাই যেন মন্দির প্রাঙ্গণে এসে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে যান। এছাড়াও স্মরণ সভায় উপস্থিত ছিলেন “কালীমাতা পূজা সমিতির” বিশিষ্ট সদস্য শিবাজী পাড়ুই, দেবদূত কর্মকার , কুন্তল দাস প্রভৃতি আরো অনেকে। সব শেষে ১ মিনিটের নীরবতা পালন করে স্মরণ সভার সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।