হাওড়া : বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম অঙ্গ দেওয়াল লিখন। আর প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রামীণ হাওড়ার বিভিন্ন কেন্দ্রে দেওয়াল লিখতে তুলি, রংয়ের কৌটো নিয়ে ময়দানে নেমে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। রাজনৈতিক মহলের মতে, এবার নির্বাচনে প্রচারের সময় বেশ খানিকটা কম।

পাশাপাশি, মানুষও ক্রমশ ‘ডিজিটাল’ নির্ভর হয়ে উঠছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলো অনেকটাই ডিজিটাল প্রচার ও পেশাদার শিল্পী দিয়ে ভোটের প্রচার করতে উদ্যোগী। কিন্তু, বঙ্গের মানুষের মন ছুঁতে দেওয়াল লিখন যে একটা বড়ো ফ্যাক্টর তা একবাক্যে মেনে নেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। আর তাই প্রার্থীর নাম ঘোষণার সাথে সাথেই শুক্রবার বিকাল থেকে গ্রামীণ হাওড়ার আমতা, বাগনান, উদয়নারায়ণপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় দেওয়াল লিখনে নেমে পড়লেন তৃণমূল কর্মীরা। বেশিরভাগ জায়গাতেই প্রার্থীর নাম ফাঁকা রেখে বাকি লেখা সারা হয়ে গিয়েছিল।

শুক্রবার বিকেল হওয়ার সাথে সাথে সেই ‘শূন্যস্থানটা’ও পূরণ হয়ে গেল। এদিন সন্ধ্যায় ইমার্জেন্সি লাইট হাতে উলুবেড়িয়া উত্তর বিধানসভার উদং-১ অঞ্চলে নির্মল মাজির সমর্থনে দেওয়াল লিখতে দেখা যায় বুথ স্তরের বেশ কিছু কর্মীকে। তাদের কথায়,”এটাই তো ভোট উৎসব। এটাই তো আনন্দ।” পাশাপাশি, আমতা বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় দেওয়াল লিখতে দেখা যায় প্রার্থী ‘স্বয়ং’ সুকান্ত পালকে। অন্যদিকে, উদয়নারায়ণপুরেও দলীয় কর্মীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেওয়াল লেখায় মেতে ওঠেন প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক সমীর কুমার পাঁজা। উলুবেড়িয়া দক্ষিণ ও বাগনান কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী যথাক্রমে পুলক রায় ও অরুণাভ সেনের সমর্থনে এদিন দেওয়াল লেখেন দলীয় কর্মীরা।

এবারের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় রয়েছে একাধিক চমক। এবার টিকিট পাননি ২৭ জন বিধায়ক। যাদের মধ্যে রয়েছেন পাঁচ মন্ত্রী। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকে এবার আর প্রার্থী করা হল না। বদলে খড়দা কেন্দ্রে এবার টিকিট দেওয়া হয়েছে স্থানীয় পুরসভার চেয়ারম্যান কাজল সিংকে। বাদ পড়েছেন কারিগরি শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ দফতরের মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুও। পূর্ণেন্দুর কেন্দ্র রাজারহাট-গোপালপুরে এবারে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন ২৪ ঘণ্টা আগে দলে যোগ দেওয়া সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সি।

খাদ্যপ্রক্রিয়া করণ এবংউদ্যানপালন দফতরের মন্ত্রী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লাকেও এ বার ভাঙড়ে টিকিট দেওয়া হয়নি। বয়সের কারণেই তাঁকে অব্য়াহতি দেওয়া হয়েছে বলে খবর। ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী প্রাক্তন সিপিআইএম নেতা তথা পেশায় চিকিৎসক মহম্মদ রেজাউল করিম। বাদ পড়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদা। সেখানে টিকিট পেয়েছেন কল্পনা কিস্কু। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী রত্না ঘোষ করকেও তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নদিয়ার চাকদায় প্রার্থী হয়েছেন শুভঙ্কর সিং।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।