হাওড়া: এবার স্কুলেও এনআরসি আতঙ্ক! হাওড়ার স্কুল থেকে একটি ফর্ম বিলিকে কেন্দ্র করে বিপত্তির সূত্রপাত। তা নিয়েই হুলস্থূল এলাকায়। স্কুলে চড়াও অভিভাবকরা। স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুকরু করেন অভিভাবকরা। যদিও প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের সংশ্লিষ্ট ফর্মের ধরন নিয়ে বোঝান। নিছকই একটি সার্ভের ফর্ম বলে দাবি করেন তিনি। তবে ফর্ম বিলির ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা নেওয়া উচিত ছিল বলে মত প্রধান শিক্ষকের।

মঙ্গলবার হাওড়ার পাঁচপাড়া হাই-মাদ্রাসা হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল থেকে দেওয়া হয়েছে রহস্যজনক একটি ফর্ম। যে ফর্মটিতে পড়ুয়ারা কোন ধর্মাবলম্বী তা নাকি লিখতে হচ্ছে। পড়ুযাদের জাতি সম্পর্কেও ফর্মে লিখতে হচ্ছে৷ ফর্মটি বাড়িতে নিয়ে যেতেই এনআরসি আতঙ্কে ভুগতে থাকেন অভিভাবকরা৷ স্কুল থেকেই এনআরসির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল ভেবে একজোট হয়ে স্কুলে চড়াও অভিভাবকদের একাংশ৷

পাঁচপাড়া হাই-মাদ্রাসা হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন সংখ্যালঘু অভিভাবকরা। মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনায় তুমুল শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। স্কুলেই আটকে রাখা হয় প্রধান শিক্ষককে। খবর যায় সাঁকরাইল থানায়। স্কুলে আসে বিশাল পুলিশবাহিনী। প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন পুলিশকর্মীরা। ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা। প্রধান শিক্ষককে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুঁড়তে শুরু করেন তাঁরা। অভিভাবকদের অভিযোগ, ওই ফর্মে শুধু নাম নয়, লিখতে হচ্ছে মোবাইল নম্বর। কোন জেলায় পড়ুযার জন্ম ও তাদের রাজ্যের নাম কী। এমনকী পড়ুয়ারা কোন জাতি বা ধর্মের তাও লিখতে বলা হয়েছে।

যদিও স্কুল থেকে বিলি হওয়া ওই ফর্মের সঙ্গে এনআরসির আদৌ কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দেওয়া ফর্মটি নিছকই একটি সার্ভের জন্য বিলি করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তবে ফর্ম বিলির ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি। সামান্য একটি ফর্ম বিলি নিয়ে যে এতবড় কাণ্ড হয়ে যাবে তা তিনি বুঝতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন।