হাওড়া: পুরসভার কলে দূষিত জল সরবরাহের অভিযোগ৷ সেই জল খেয়ে পেটের রোগে ভুকছেন উত্তর হাওড়ার বেশ কিছু এলাকার মানুষ৷ এদের মধ্যে অনেককেই আবার সত্যবালা আইডি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে৷ জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্যে পাঠানো হয়েছে৷

অভিযোগ,পুরসভার টাইম কলে আসা দূষিত জল পান করে অনেকেই পেটের সমস্যায় ভুগছেন৷ ইতিমধ্যে অসুস্থ হয়ে অনেকেই সত্যবালা আই ডি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন৷ জল আতঙ্কে অনেকেই আবার বাইরে থেকে জল কিনে খাচ্ছেন৷

প্রায় এক মাস ধরে এমনই ছবি দেখা গেছে উত্তর হাওড়ার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে৷ এখনও পর্যন্ত ২৬১জন পেটের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন সত্যবালা আই ডি হাসপাতালে৷ পুরসভা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় বোরো অফিসে বিষয়টি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ৷

জানা গিয়েছে,গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তর হাওড়ার ১,২,৩,৪,৬ নম্বর ওয়ার্ড সহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে পুরসভার টাইম কলে ঘোলা জল আসছে৷ জলের রং কিছুটা লালচে৷ এমনকি ওই পানীয় জলে বেশ দুর্গন্ধ বলেও অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের৷

হাওড়া পুরসভার কৃষ্ণতারন নস্কর লেন, লালবিহারী বোস লেন, দূর্গাপালের মাঠ, দয়ারাম নস্কর লেন, নবীন ঘোষ লেন, পালের বাগানের মাঠ প্রভৃতি এলাকায় এই দূষিত জল সরবারহ হচ্ছে বলে অভিযোগ৷ সেই জল পান করে ইতিমধ্যেই শতাধিক মানুষ পেটের সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন৷

পেট ব্যাথা, পাতলা পায়খানা সহ নানা উপসর্গ দেখা দিচ্ছে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে৷ স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা করানোর পাশাপাশি অনেককেই ছুটতে হয়েছে সত্যবালা আই ডি হাসপাতালে৷ শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে বেশ কয়েকজন বাসিন্দাকে ইতিমধ্যেই ভর্তি করতে হয়েছে হাসপাতালে৷

দয়ারাম নস্কর লেনের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, সকালে ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত যে জল আসে তা ঘোলা৷ অনেকটা লালচে রঙের, এবং দুর্গন্ধযুক্ত৷ সেই জল খেয়ে পেটের সমস্যা হচ্ছে৷ তাই বাধ্য হয়ে পানীয়জল কিনে খেতে হচ্ছে৷ পুরসভাকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি৷

এদিকে, স্থানীয় সত্যবালা আইডি হাসপাতালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডঃ সুস্মিতা দাসগুপ্ত বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই উত্তর হাওড়ার বেশ কিছু এলাকার মানুষ পেটের সমস্যার কারণে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন৷ ওইসব এলাকা থেকে মোট ২৮ জন রোগী বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন৷ প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে জলের কারণেই এই সংক্রমণ হয়েছে৷

হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, প্রাথমিকভাবে পানীয় জলের কারণেই ডাইরিয়ার এই সংক্রমণ বলে মনে হচ্ছে৷ তবে ঋতু পরিবর্তনের সময়েও এই ধরনের সমস্যা হতে পারে৷ শুধু জানুয়ারি মাসে ২৬১ জন ডাইরিয়ায় আক্রান্তদের চিকিৎসা করা হয়েছে৷

হাওড়া পুর কমিশনার তথা পুর প্রশাসক বিজিন কৃষ্ণ জানান, গত ২-৩দিন আগে অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ ইতিমধ্যেই জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্যে পাঠানো হয়েছে৷ জলে কিভাবে এই সমস্যা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।