হাওড়া: ফণী ঘুর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় আগাম সতর্কতা নিল হাওড়া পুরনিগম। এই ঘুর্নিঝড়ের প্রভাবে শহরবাসীর যাতে কোনওরকম অসুবিধা না হয়, সেজন্য ইতিমধ্যেই প্রথমে পুর আধিকারিকদের এবং পরে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেন হাওড়া পুরনিগমের কমিশনার তথা প্রশাসক বিজিন কৃষ্ণ।

তিনি বলেন, হাওড়া পুরনিগমে ২৪ ঘন্টার কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। চালু করা হয়েছে হেল্প লাইন। শুধু তাই নয় প্রত্যেকটি বরো অফিসে চালু করা হয়েছে কন্ট্রোল রূম। পুরনিগম এরমধ্যেই রাস্তায় লাগানো বিপদজনক ফ্লেক্স ও হোর্ডিং খুলে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে।

আরও জানানো হয়, হাওড়া শহরের বিপদজনক বাড়িগুলি থেকে বাসিন্দাদের সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। হাওড়া পুরনিগমের মেডিকেল অফিসারদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আগাম সতর্কতা হিসেবে মজুত করা হয়েছে জরুরী ওষুধপত্র, ত্রিপল ও অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী। রাখা হয়েছে পানীয় জলের পাউচ প্যাকের ব্যবস্থাও। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে শহরের রাস্তায় জল জমে গেলে তা সরানোর জন্যে বেশ কয়েকটি জায়গায় পাম্প বসানো হয়েছে।

 

এছাড়াও ঝড়ের কারণে গাছ বা গাছের ডাল পড়ে বিদ্যুতের তার ছিড়ে গেলে তা সরিয়ে বিদ্যুৎ সরবারহ স্বাভাবিক রাখতে ক্যালকাটা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশনের সঙ্গেও আলোচনাও করা হয়েছে পুরনিগমের তরফ থেকে। এছাড়াও পুরনিগমের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপকেও তৈরি রাখা হচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য৷

অন্যদিকে, ঘুর্নিঝড় ‘ফণী’র আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা নিয়েছে ভারতীয় রেলও। ইতিমধ্যে ২-৪ মে পর্যন্ত ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং কেরালাগামী তিনটি ডিভিশনের মোট ১০৩টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরী এক্সপ্রেস, জগন্নাথ এক্সপ্রেস, করমন্ডল এক্সপ্রেস, ফলকনামা সহ একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। পর্যটকদের ফেরাতে একাধিক বিশেষ ট্রেন চালাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব রেল।

‘ফণী’র প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্ব রেল পরিষেবা বিপর্যস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার বিকেলে দক্ষিণ-পূর্ব, ইস্ট কোস্ট এবং সাউথ সেন্ট্রাল ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার এবং রেলওয়ে বোর্ডের সদস্যদের নিয়ে এক ভিডিও কনফারেন্স হয়। সেই কনফারেন্সের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যাত্রী নিরাপত্তা স্বার্থে সমুদ্র উপকুলবর্তী ট্রেন বন্ধ রাখা হবে।

ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

‘ফণী’র ভয়ঙ্কর প্রভাবের কারনে ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হতে পারে দক্ষিণ-পূর্ব এবং ইস্ট-কোস্ট রেলওয়ের প্রায় ২৭৪ কিমি রেলপথ। সেই সঙ্গে এই দীর্ঘ রেলপথের ওপরে থাকা বৈদ্যুতিক তার প্রবল ঝড়ে ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভয়ঙ্কর বিপর্যয় মোকাবিলা করতে আগেভাগেই বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রেল।

বিশাখাপত্তনম খুড়দা রোড ভুবনেশ্বর, সহ বিভিন্ন স্টেশনে রাখা হয়েছে ব্রেকডাউন ভ্যান এবং রিলিফ ট্রেন। এর পাশাপাশি টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার কথা মাথায় রেখে বিকল্প টেলি যোগাযোগের ব্যবস্থা করছে রেল।