ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: অবশেষে স্বস্তি মিলল হাওড়া পুরনিগমের অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক ৪১৯ জন কর্মীর। পুরসভার ৪১৯ জন চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী কর্মীর নিয়মিতকরণ হল। আগামী ১০ই জুলাই তাঁরা প্রথম মাসের বেতন পাবেন।

সোমবার হাওড়া পুরসভায় এসে রাজ্য সরকারের পদস্থ আধিকারিক ও প্রশাসক মণ্ডলীর সঙ্গে বৈঠকের পরে এই ঘোষণা করেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। পুরমন্ত্রী জানান, এই কর্মীদের বেতন সরকার দিতে পারে না৷ বেতন পুরসভাই দেবে। প্রথম মাসের বেতন আগামী ১০ তারিখে দেওয়ার পরে প্রতি মাসেই নিয়মিতভাবে বেতন দেওয়া হবে।

এদিন বিকেল থেকেই হাওড়া পুরসভায় একে একে আসতে শুরু করেন উচ্চ পদস্থ সরকারি আমলারা। তাদের দেখে আশা আশায় পুরসভার গেটের সামনে জড়ো হতে থাকেন দীর্ঘ ৯ মাস ধরে বেতন না পাওয়া ৪১৯ জন চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী কর্মী। ছুটির পরেও তাঁরা অপেক্ষায় থাকেন। ইতিমধ্যেই হাওড়া পুরসভায় এসে পৌঁছান পুরমন্ত্রী। পুর কমিশনার তথা পুর প্রশাসক বিজিন কৃষ্ণ, প্রাক্তন মহানাগরিক ডঃ রথীন চক্রবর্ত্তী, রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায়, ও সরকারি আমলাদের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন পুরমন্ত্রী।

প্রায় এক ঘন্টা বৈঠকের পরে পুরমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এদের বেতন রাজ্য সরকার দিতে পারে না। এদের বেতন পুরসভাই দেবে। এতদিন পরে এই ঘোষণায় খুশির হাওয়া বয়ে যায় সকলের মধ্যে।
হাওড়া পুরসভায় ৪১৯ জন অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী গত নয় মাস ধরে বেতন না পেয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। অবশেষে এদের পাশে দাঁড়াল রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর।

সোমবার সন্ধ্যায় পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম হাওড়া পুরসভায় এসে একটি রিভিউ মিটিং করেন। সেই রিভিউ মিটিং এ এদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফিরহাদ হাকিম পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘চুক্তিভিত্তিক ৪১৯ জনের যে সমস্যা চলছিল সেটি সমাধান হল। আগামী ১০ তারিখ থেকে এরা বেতন পাবেন।

প্রত্যেক মাসে নির্দিষ্ট সময়ে এরা বেতন পাবেন। সেই ব্যাপারে কথাবার্তা চূড়ান্ত হয়েছে।!! এছাড়াও ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‘৪১৯ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীকে নেওয়া হয়েছে তাদের বিভিন্ন দফতরে ছড়িয়ে দিয়ে পুরসভার কাজে লাগানো হবে। এর মধ্যে যেমন কনজারভেন্সি, ওয়াটার সাপ্লাই থেকে শুরু করে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে এদের কাজে লাগানো হবে। যারা ইঞ্জিনিয়ার আছেন তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরে লাগানো হবে। সেরকম কনজারভেন্সি ক্ষেত্রে সুপারভাইজার হিসেবে ৬৬ জনকে, ওয়াটার সাপ্লাই ডিপারমেন্ট ৬৬ জনকে, যারা হেলথ ডিপার্টমেন্টে কাজ করে তাদের হেলথে, যারা শিক্ষা বিভাগে কাজ করে তাদের শিক্ষা বিভাগে এইভাবে এদের পুরসভার কাজে লাগানো হবে।’’

তবে পুরনো বকেয়া বেতনের জন্য এখনও ধৈর্য ধরতে হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এদিন ফিরহাদ হাকিম বলেন, কনজারভেন্সির ক্ষেত্রে হাওড়া পুরসভাকে আমরা সতর্ক করলাম। প্রয়োজনে রাজ্য সরকার সমস্ত রকম সাপোর্ট দেবে। তিনি বলেন, ‘‘হাওড়ায় যে সমস্ত রাস্তাঘাট খারাপ হয়ে আছে সে সমস্ত বিষয় নিয়ে আজকে আলোচনা হয়েছে। এই কারণে আমরা প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, জয়েন সেক্রেটারি, ফাইন্যান্স অফিসারদের নিয়ে এসেছিলাম। সকলে মিলেই ভাল আলোচনা হয়েছে। হাওড়া পুরসভা প্রশাসক এর তত্ত্বাবধানে ভালোই চলছে।’’

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ