হাওড়াঃ  ইতিমধ্যে ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাংলায় ফের বাড়ল লকডাউন। অন্যদিকে, হাওড়ায় ২৭টি কন্টেনমেন্ট জোন বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর তা চিহ্নিত করে আজ শুক্রবার থেকে ফের সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। লকডাউন সফল করতে বিভিন্ন থানা এলাকায় পথে নেমেছে পুলিশ।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ মতো ৩১ জুলাই পর্যন্ত বেড়েছে লকডাউনের মেয়াদ। এরপরই বৃহস্পতিবার কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলি সিল করে দেওয়া শুরু করল পুলিশ। হাওড়ায় কমিশনারেট এলাকায় ২৭টি কন্টেনমেন্ট জোনকে কড়া পুলিশি পাহারায় ঘিরে দেওয়া হয়েছে।

ওই সমস্ত এলাকার বাসিন্দাদের এলাকার বাইরে বের হওয়া বা বাইরে থেকে কারও এলাকায় প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, শহরে মোট কন্টেনমেন্ট জোন ৮৪টি। তার মধ্যে ২৭টিকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে যাতায়াতের রাস্তায় ব্যারিকেড লাগানো হয়েছে।

ওইসব এলাকার দোকান, বাজার সব বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাস্তার ধারে বোর্ড লাগিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিধিনিষেধ মেনে চলতে বলা হয়েছে। আবার শুরু হয়েছে পুলিশি টহল। পুলিশের এই তৎপরতায় সংক্রমণ কমবে বলেও মনে করছেন অনেকে। প্রায় ২৭টি এলাকায় আবার পুরোদমে লকডাউনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এইসব এলাকায় পর্যাপ্ত কারণ ছাড়া ঢোকা বা বেরনো যাবে না। মধ্য হাওড়ার পি কে ব্যানার্জি রোড, রাউন্ড ট্যাঙ্ক লেনে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও উত্তর হাওড়ার কয়েকটি এলাকা সিল করে দিয়েছে পুলিশ। মালিপাঁচঘড়া, হাওড়া সহ বিভিন্ন থানা এলাকায় পুলিশের তৎপরতা শুরু হয়েছে। আনলক-১ এ লাগামছাড়া মনোভাবের ফলে বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। বিধিনিষেধ না মানার ফলেই হু হু করে বাড়ে আক্রান্তের সংখ্যা। এরপর ফের তৎপরতা শুরু হয়।

অন্যদিকে, বাংলায় ক্রমশ থাবা বসাচ্ছে মারণ করোনা। বাড়ছে সংক্রমণ। এই অবস্থায় উদ্বিগ্ন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামিদিনে কীভাবে করোনার মোকাবিলা কীভাবে করা সম্ভব তা জানতে সর্বদল বৈঠকের ডাক দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমস্ত দলের প্রতিনিধিরা আজ বুধবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘক্ষণ বৈঠক চলে। একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয়।

সর্বশেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি বিচার করে আরও লকডাউন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক কিছুতে ছাড় দেওয়া হলেও কড়া ভাবে বাংলায় লকডাউন মানতে হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে জানান, ৩১ জুলাই পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে চলবে না লোকাল ট্রেন বা মেট্রো। মূলত সংক্রমণের আশঙ্কাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রশাসন সূত্রে খবর।

এদিন নবান্নে মমতা বলেন, ৩০ জুন পর্যন্ত লকডাউন করাই রয়েছে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাবতীয় ছাড়সহ লকডাউন চলবে। পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৩১ জুলাই পর্যন্ত লোকাল ট্রেন বা মেট্রো চালানোর কোনও পরিকল্পনা নেই রাজ্য সরকারের। সংক্রমণ এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।