হাওড়া: দাবিদাওয়া আদায়ের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন প্রতিটি জেলার হাসপাতালের চিকিৎসকরা। অচলাবস্থা চলছে রাজ্য জুড়ে। এর জেরে ভয়ঙ্করভাবে বিপর্যস্ত এক সদ্যজাত শিশুকন্যার বাবা মা। জন্মের পরেই দুটি পা বাঁকা থাকার কারণে মেডিক্যাল কলেজের অর্থোপেডিক চিকিৎসকের পরামর্শে পনেরো দিন আগে ডান পায়ে প্লাস্টার করতে হয়। খোলার কথা ছিল সাতদিন পর। কিন্তু চিকিৎসকদের আন্দোলনের জেরে গত ছয় দিন ধরে মেডিক্যাল কলেজে ঘুরেছেন বাবা মা।

এদিকে মাত্র এক মাসের কন্যা শিশুর পায়ের চামড়ায় ঘা শুরু হয়ে যায়। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন দম্পতি। শেষে মেডিক্যাল ঘুরে হাওড়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন বীরাডিঙ্গির বাসিন্দা ওই দম্পতি। শিশুটির অবস্থা দেখে সঙ্গে সঙ্গে তার প্লাস্টার কাটার ব্যবস্থা করলেন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক। চিকিৎসা পেয়ে খুশি শিশুটির বাবা সঞ্জীব দত্ত ও মা রীতা দত্ত।

চিকিৎসা পেয়ে খুশি শিশুটির বাবা সঞ্জীব দত্ত জানান, তাদের এতদিনের সমস্যার সমাধান হল। আগামী দিনে তাদের আশা তাদের কন্যা সুস্থ হয়ে উঠবে। অপরদিকে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশানের ডাকা এদিনের ধর্মঘটকে সমর্থন করেও রোগীদের সাহায্যার্থে এগিয়ে এলেন বালির এক চিকিৎসক। তিনি সোমবার সকাল থেকেই ফি না নিয়ে রোগী দেখতে শুরু করেন।

ডাঃ রঞ্জিত শর্মা এই প্রসঙ্গে বলেন, আমি সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসকদের পাশে রয়েছি। আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সঙ্গে। কিন্তু পাশাপাশি রোগীদের দিকটাও মানবিকভাবে দেখতে হবে। তাই আমি চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছি কিন্তু পরিবর্তে আমার ফি নিচ্ছি না। যখন সর্বত্রই কার্যত বন্ধ চিকিৎসা পরিষেবা তখন এইভাবে চিকিৎসা পেয়ে খুশি রোগীরা।