স্টাফ রিপোর্টার ,হাওড়া : পাশাপাশি দুই জেলা। কলকাতার খুন কাছে চলে এসেছে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’। পাশের জেলা হাওড়াও শঙ্কিত। তাই নেওয়া হয়েছে আগাম প্রস্তুতি। গাদিয়ারা লঞ্চঘাটে প্রস্তুতি তুঙ্গে। চলছে নাগাড়ে মাইকিং।

সাইক্লোন ক্রমশ এগিয়ে আসছে বাংলার স্থলভাগের দিকে। চলছে মোকাবিলার প্রস্তুতি। সেই ছবিই ধরা পড়ল হুগলি ও রূপনারায়ণের সঙ্গমস্থল গ্রামীণ হাওড়ার গাদিয়াড়ার লঞ্চঘাটে। লকডাউনের জেরে দীর্ঘদিন বন্ধ গাদিয়াড়া-গেঁওখালি ও গাদিয়াড়া-নুরপুর রুটের লঞ্চ পরিষেবা।কিন্তু,বাড়ি ফেরা হয়নি শুভেন্দু,সইদুল,প্রসেনজিৎদের মতো লঞ্চের কর্মীদের। লঞ্চেই তাঁরা এখন দিনযাপন করছেন। ঘাটে নোঙর করা হুগলী জলপথ পরিবহণ নিগমের দু’টি লঞ্চ আম্ফানে যাতে কোনোরকম ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে তাদের সজাগ দৃষ্টি।

পাশাপাশি,গাদিয়াড়া ঘাট থেকে চলছে মাইকিং।মাইকিংয়ের মাধ্যমে নদীতে ভুটভুটি,নৌকা না চালানোর অনুরোধ যেমন করা হচ্ছে তেমনই মৎসজীবিদের মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে। গাদিয়াড়া লঞ্চ ঘাটের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘যাত্রী পরিষেবা বন্ধ। কিন্তু,ঝড়ের সময়ে লঞ্চকে নিরাপদ রাখতে সবরকম প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। লঞ্চে রয়েছে লাইফ জ্যাকেট,লাইফ বোট সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা।’ এদিকে হাওয়া অফিস জানিয়েছে থেকে ৩৩৩ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ঝড়। নতুন আপডেটে এমনটাই জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। শহরে মঙ্গলবার দুপুর থেকে চলছে বৃষ্টি। বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে দাপুটে ঝড়ো হাওয়া।

আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, আমফান মারাত্মক শক্তি নিয়ে পূর্ব উপকূলের দিকে অগ্রসর হছে। বুধবার আছড়ে পড়ার কথা রয়েছে সুন্দরবনের নিকটবর্তী এলাকায়। আশঙ্কায় বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বাসিন্দাদের সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু করে দিয়েছে। দিঘা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ২২৫ কিলোমিটার। পারাদ্বিপ থেকে ১২৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে এই ঝড়। আমফানের জেরে কমেছে শহরের পারদও। তাও এক ধাক্কায় ৬ ডিগ্রি। মঙ্গলবার মরসুমে প্রথমবার সকালেই ২৯ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়েছিল পারদ। বুধবার তা অনেকটাই নেমে এসেছে। বুধবার সকালে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে তিন ডিগ্রি কম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মঙ্গলবার ৩৩.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে দুই ডিগ্রি কম ছিল। আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৫ সর্বনিম্ন ৬৬ শতাংশ। বৃষ্টি হয়েছে ১৩.৮ মিলিমিটার। সোমবার সন্ধ্যা থেকে হঠাৎ করেই হাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। গুমোট হতে শুরু করে আবহাওয়া।

রাতভর অস্বস্তিকর গরম ভুগিয়েছিল শহরবাসীকে। সকালেও সেই অবস্থা বর্তমান ছিল। এ সবই যে ঝড়ের পূর্ববর্তী অবস্থা তা স্পষ্ট হয়ে যায়। মঙ্গলবার, শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে তিন ডিগ্রি বেশি। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সোমবার ৩৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে এই ডিগ্রি বেশি ছিল। আজ ঝড় বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা নামতে পারে। বুধবার দিনভর আবহাওয়া প্রচণ্ড খারাপ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। এবার শহরের উপর ঝড়ের আগমনী ধবনি কতটা প্রভাব ফেলে সেটা দেখার। ওইদিন সকালে শহরের সর্বোচ্চ আর্দ্রতার পরিমাণ ৯০ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৩৮ শতাংশ। সোমবার রাতের দিকে ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হয়েছিল শহরে, তা অস্বস্তিকে আরও কয়েকগুন বাড়িয়ে দিয়েছিল। মঙ্গলবার রাত থেকে মিলেছে বহু প্রতিক্ষিত এবং কাঙ্খিত স্বস্তি। দমদমের সকালের তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বৃষ্টি হয়েছে ১৪ মিলিমিটার। সল্টলেকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭.২ ডিগ্রি সেসিয়াস, এখানেও বৃষ্টি হয়েছে ৫ মিলিমিটার। আর্দ্রতার পরিমাণ দুই অঞ্চলে যথাক্রমে ৯৯ ও ৮৬ শতাংশ।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।