হাওড়া: ন্যপ্রাণে রক্ষায় নজির গড়ল হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের বড়দা গ্রামের লক্ষ্মীকান্ত কাঁড়ারের পরিবার। ঘরের মধ্যে ছিল বিষধর কেউটে। মেরে ফেলতেই পারতেন। তা না করে বাঁচালেন সাপকে। তুলে দিলেন বন দফতরের হাতে। সাপ রক্ষায় পরিবার সঙ্গে পেল হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চকে। সাপ উদ্ধার পর্ব শেষে হল মিষ্টিমুখও।

যৌথ পরিবেশ মঞ্চের কাছে কলবাঁশ গ্রামের শিক্ষক এবং পরিবেশপ্রেমী অমিয় কুমার রীত প্রথম সাপের খবরটি পান। জানতে পারেন বরদা গ্রামে লক্ষ্মীকান্ত বাবুর বাড়িতে ঢুকে পড়েছে একটি বিরল প্রজাতির খড়িশ সাপ। ভাল করে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেল যায় সেটি পদ্ম গোখরো। গ্রামীণ হাওড়ায় আগে এই সাপ মাঠে গাঠে জলা জঙ্গলে প্রচুর পরিমানে দেখা গেলেও এখন আর দেখা মেলেনা। বিষধর সাপ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে গ্রামের মানুষ।

শিক্ষক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি বুঝে হাওড়া পরিবেশ মঞ্চের সদস্য সায়ন দে ও সম্পাদক শুভ্রদীপ ঘোষকে খবর দেন। মঞ্চের তরফ থেকে শুভ্রদীপ দলবল নিয়ে ছুটে যান এলাকায়। খবর দেওয়া হয় বনদফতরকেও। তাদের আসতে একটু দেরি হয়। তবে শেষে বনদফতর এসে সাপটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। প্রথমে সাপটিকে প্রথমে মেরে দেবার কথা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

হাওড়ার পরিবেশ চেতনা মঞ্চের সম্পাদক শুভ্রদীপ বলেন , ‘এটা আমাদের লাগাতার প্রচারের সুফল। ই যে বেশ কিছু সচেতন মানুষ এগিয়ে এসে সাপটিকে মারা থেকে বিরত করেন ও নিরাপদ জায়গায় বন্দি করে রাখেন।’

একইসঙ্গে তিনি বলেন , ‘নিরন্তর প্রচারে সুফল আসে। মানুষ সচেতন হয়। তার প্রমান মিলল হাতেনাতে। ভালবাসার ভ্যালেন্টাইনস দিবসের দিন বন্যপ্রাণের প্রতি মানুষের ভালবাসার নজির গড়ল বড়দার লক্ষ্মীকান্ত বাবুরা। সাধুবাদ জানিয়েছে পরিবেশমঞ্চের সদস্যরা।’

এদিনও পরিবেশ মঞ্চের তরফে গ্রামবাসীদের সাপ সহ বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের সচেতনবার্তা প্রচার করেন। গ্রামবাসীরা মঞ্চের কাছে শপথ নেন – এবার থেকে যে কোনও বন্যপ্রাণ বিরল জীবজন্তুকে দেখলে বা ধরা পড়লে তারা না মেরে বনদফতর তথা পরিবেশকর্মীদের খবর দেবেন। বেলা শেষে উপস্থিত সকলকে পরিবেশ চেতনায় ও বন্যপ্রাণ রক্ষায় এভাবে এগিয়ে আসার আনন্দে মিষ্টি খাওয়ান শিক্ষক অমিয় কুমার রীত।