সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , হাওড়া : সরস্বতী পুজো, শিক্ষা এবং সংস্কৃতির পুজো। অন্তত স্কুল থেকে কলেজ পড়ুয়াদের মনে এমনটাই স্থান বাগদেবীর। কিন্তু পরিবশ পরিছন্ন রাখার শিক্ষা? সেটা কি হয় ? উলটে বেশির ভাগ স্কুলের কাছে নালা নর্দমা, খাল, পুকুর পাড় ভরে যায় থারমোকলের থালা এবং প্লাস্টিকের গ্লাসে। গ্রামীণ হাওড়া পরিবেশ যৌথ মঞ্চের আবেদন সরস্বতী পুজো হোক ‘পরিবেশকে ভালবেসে, শালপাতায় হেসে হেসে’।

সরস্বতীর পুজোতে প্রায় প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই কমবেশী প্রীতিভোজের ব্যবস্থা থাকে। গ্রামীণ হাওড়া পরিবেশ যৌথ মঞ্চের অনুরোধ প্রীতিভোজের অনুষ্ঠানে থার্মোকল নয়, ব্যবহার করা হোক পরিবেশ বান্ধব শালপাতা, কলাপাতা, কাগজের থালা। প্লাস্টিকের গ্লাসের পরিবর্তে ব্যবহার করা হোক কাগজের গ্লাস।এভাবেই উৎসব হয়ে উঠুক আনন্দময়।পরিবেশ সচেতনতার স্বার্থে তারা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই প্রচার চালাচ্ছেন। পাশাপাশি স্কুলে স্কুলে গিয়েও চালাচ্ছেন প্রচার।

সম্প্রতি এই উদ্যোগ নিয়ে গ্রামীণ হাওড়া পরিবেশ যৌথ মঞ্চ পৌঁছে গিয়েছিল আমতা ১ ও ২ ব্লকের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ এলাকায়। মঞ্চের পক্ষে স্লোগান, ‘প্রীতিভোজের খাওয়া দাওয়া হবে না আর থার্মকলের পাতায়, হবে এবার পরিবেশবান্ধব শালপাতা’। এই শালপাতার চাহিদা আর জোগান দিচ্ছেন তাঁরাই। প্রত্যেক স্কুল কলেজে গিয়ে পুজোর আগেই বিলি করা হচ্ছে শালপাতা। তাঁদের দাবি, যোগানের অভাবে এই সদিচ্ছার অপমৃত্যু ঘটতে দেবেন না। সরস্বতী পুজোয় প্রীতিভোজ সারবে এবার গ্রামীণ হাওড়ার শিক্ষার্থীরা পরিবেশকে ভালবেসে। শালপাতায় হেসে হেসে।

একইরকম উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে মাধবপুর চেতনা সমিতিও। পরিবেশকর্মী জয়িতা কুণ্ডু কুন্তি বলেন, ” আমাদের এই বিশেষ উদ্যোগে প্রত্যেকে সামিল হোন। আবেদন পৌঁছে দিন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সেই সব স্থানে যেখানে এবার বাগদেবীর আরাধনায় আয়োজিত হবে প্রীতিভোজের।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “স্কুল ,কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন হবেই। সমস্ত প্রতিষ্ঠানে আমাদের যাওয়া হয়তো সম্ভব হবে না। তভে চেষ্টা করছি। সোশ্যাল মাধ্যমেও প্রচার করছি। আশা করবো যাদের কাছে আমরা পৌঁছতে পারব না তাঁরাও যেন পরিবেশের কথা ভেবে পরিবেশ বান্ধব দ্রব্যে খাবার পরিবেশন করবেন। সরস্বতী পুজোর শুভেচ্ছা রইল। সুস্থ পরিবেশ এবং সমাজ গড়ার শিক্ষা সবার আগে দরকার। তারপর পুঁথিগত শিক্ষাতো রইলই।”

মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে এই শালপাতা ব্যবহার নিয়ে অনেক আগেই প্রচার শুরু হয়েছিল। এখন বিভিন্ন পরিবেশকর্মী সেখানে এই প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এবার একই কাজ শুরু হয়েছে হাওড়াতেও।