হাওড়াঃ  স্টোনম্যানের কায়দায় পাথর দিয়ে মাথা ও মুখ থেঁতলে হাওড়ার জগাছায় খুন হয়েছিল এক যুবক। ওই ঘটনায় মৃতের পরিচয় জানার পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। এদের হেফাজতে নিয়ে খুনের কারণ জানার চেষ্টা করা হবে। এর আগে মঙ্গলবার অজ্ঞাতপরিচয় ওই যুবকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল হাওড়ার জগাছার উনসানি এলাকায়। উনসানির মৌড়ি এলাকায় শ্মশানধারে ওই যুবকের রক্তাক্ত দেহটি পড়েছিল। পাথর দিয়ে তার মাথা ও মুখ থ্যাতলানো ছিল। ওই অবস্থাতেই দেহটি সেখানে পড়েছিল।

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বিভিন্ন সূত্র ধরে প্রথমেই ওই যুবকের পরিচয় জানতে পারে। ছবি এবং বিবরণ পাঠানো হয় বিহারের পাটনায় মৃতের পরিবারের কাছে। জানা যায় নিখোঁজ থাকা যুবকেরই দেহ এটি। এরপর বিভিন্ন সূত্রকে কাজে লাগিয়ে জগাছা থানার পুলিশ খুনের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করে। এদের বিরুদ্ধে ৩০২ ও ২০১ আইপিসি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

বুধবার ধৃতদের হাওড়া আদালতে তোলা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম মহঃ সোনু(৩৩)। তার বাড়ি বিহারের পাটনার ফুলওয়ারি’তে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, খুন হয়েছিল শনিবার রাত থেকে রবিবার ভোরের মধ্যে কোনও এক সময়ে।

সোনুকে ডেকে এনে শ্বাসরোধ করে পাথর দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। ধৃতেরা সকলেই সোনুর পরিচিত। এরা সকলেই দুষ্কৃতি বলে জানা গিয়েছে। খুনের কারণ জানার চেষ্টা চলছে। বুধবার দুপুরে এই খুনের ঘটনা নিয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি (সাউথ) জবি থমাস বলেন, এই ঘটনায় আমরা চারজনকে গ্রেফতার করেছি। এরা হল মহঃ সইফুদ্দিন ওরফে ছোটে মিয়াঁ, মহঃ শাহজাদ ওরফে সাকা, মহঃ সলমান ও মহঃ রিঙ্কু। এদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। খুনের কারণ জানার চেষ্টা চলছে।

ধৃতেরা ভিন রাজ্যের বাসিন্দা হলেও হাওড়ায় সাঁকরাইলের চুনাভাটি ও জগাছার সাঁতরাগাছিতে থাকেন। মৃতের পরিবারকে হাওড়ায় ডাকা হয়েছে। ধৃতেরা জেরায় স্বীকার করেছে এই অপরাধের কথা। ১৬ ফেব্রুয়ারি খুব সকালে ঘটনাটি ঘটে।এরা প্রত্যেকেই বন্ধু।

অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত এরা। ওরা মহম্মদ সোনুকে সেখানে নিয়ে আসে। সবাই মিলে মদ্যপান করে। তারপর তারা সোনুকে খুন করে।যাতে তাঁকে চেনা না যায় মুখ পাথর দিয়ে মেরে থেঁতলে দেয়। এটা একটা পরিকল্পিত খুন। সোনুকে খুন করার উদ্দেশ্যেই তারা সেখানে ওকে নিয়ে গিয়েছিল। গত ১৫ তারিখ সোনু বিহার থেকে এসেছিল। আর ১৬ তারিখ খুব ভোরে এই ঘটনা ঘটে। সোনুর পোশাক, হাতের আংটি দেখে তাকে সনাক্ত করা হয়। আমরা ওর ছবি তুলে ওর স্ত্রীকে পাঠাই।তিনি সোনুকে সনাক্ত করেন। তবে কি কারণে এই খুন এর তদন্ত চলছে। আরও তথ্য জানার জন্য মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব