স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: সম্প্রতি হাওড়া মাকড়দহ রাঘবপুরে ঐতিহাসিক ১০ ই মাঘের কালী মা এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎসব ও তদসংলগ্ন বিরাট এক দিনের মেলা রাঘবপুর ধাড়সাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সঙ্গে থাকছে বিরাট অন্নকূট উৎসবও। এছাড়া থাকছে এই উৎসব ঘিরে বিভিন্ন দিনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সম্ভার।

১০মাঘ পূজা কমিটির বর্তমান সম্পাদক অজয় দাস ও প্রাক্তন সম্পাদক সন্যাসী চরন দাস জানিয়েছেন যে ” এই মেলা এক ঐতিহাসিক মেলা, যেখানে দূরদূরান্ত গ্ৰাম থেকে মানুষ ১০ মাঘের কালী মা এর আশীর্বাদ লাভে ও প্রসাদ গ্রহন করতে আসেন। ১০ ই মাঘের কালী মা খুব ই জাগ্রত। আমরা মন্দিরে বলি প্রথা বহু দিন তুলে দিয়েছি ও ১০ মাঘ মন্দির কমিটি মানুষের স্বার্থে বিভিন্ন সামাজিক কাজ করে চলেছেন।

ধাড়সা নিবাসী ও বিভিন্ন শুভাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিদের ঐকান্তিক সহযোগিতায় এই মেলা এক অন্যরকম মাত্রা ও পরিচিতি পেয়েছে হাওড়া জেলার বুকে। আমাদের মুম্বাই, দিল্লী, গুজরাট প্রভৃতি প্রবাসী ও এলাকার বিভিন্ন শুভাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিরা তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এই মেলা ও তদসংলগ্ন অনুষ্ঠান সুন্দর ভাবে পরিচালনা করতে। তাদের কে অনেক অনেক ধন্যবাদ। ” উল্লেখ্য এই মেলা ও তদসংলগ্ন সকল অনুষ্ঠানে প্রবেশ অবাধ।

মূলত বাংলার প্রায় সমস্ত প্রতিষ্ঠিত কালীমন্দিরে পৌষকালীর আরাধনা করা হয়। আদিশক্তির এই রূপকে বলা হয় মোক্ষদানকারিণী। পৌষ মাসে পুজো বলে এই মাসের অন্যতম প্রধান সবজি মুলো নিবেদন করা হয় দেবীকে। তাই এখনও অনেকেই এই পুজোকে মুলোকালী পুজো বলেন। তবে পৌষের পরেই মাঘ মাসেও কালীর আর এক রূপ পূজিত হয় বাংলার কালী মন্দিরগুলিতে। মাঘ মাসের কৃষ্ণ চতুর্দশীতে হয় রটন্তীকালী পুজো। আদিশক্তির এই রূপকে গৃহশান্তির রক্ষাকারিণী বলা হয়। এঁর আরাধনায় সাংসারিক জীবন সুখের হয় বলেই মনে করা হয়।