সোয়েতা ভট্টাচার্য, কলকাতা: ১৫ অগস্ট মুড়ে ফেলবে তেরঙা৷ দোল উৎসবে হলুদ-পলাশ রঙে ভাসবে ইস্পাতের কাঠামো৷ আবার সাধারণতন্ত্রে সেজে উঠবে গেরুয়া-সাদা-সবুজে৷  হ্যাঁ! গঙ্গাতীরের দুই বোন হাওড়া-কলকাতাকে একসুত্রে বেঁধে রাখা হাওড়া ব্রিজ সেজে উঠছে এমনই আলোকধারায়৷

পর্যটকদের কাছে আকর্ষণ বাড়াতে মার্কিন দেশের সান ফ্রান্সিস্কোর নিউ ইয়র্ককে নকল করেই বাংলার হাওড়া ব্রিজকেও এলইডি আলোয় সাজিয়ে তোলা হচ্ছে৷ চলতি বছরেই পচাত্তরে পা রাখা হাওড়া ব্রিজ বা রবীন্দ্র সেতুকে ঢেলে সাজাচ্ছে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ৷

বাঙালির গর্ব, কলকাতার আইকনের প্ল্যাটিনাম জুবিলি উদযাপন করতেই এই অভিনব পরিকল্পনা করেছে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট৷ রং-বেরংঙের এলইডি লাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন উপলক্ষ্যে আলোর সজ্জায় সজ্জিত হবে হাওড়া ব্রিজ৷ বন্দর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী তিনমাসের মধ্যেই এই কাজ শুরু করা হবে৷ এই সেতুকে নয়া আলোয় সাজাতে চার থেকে পাঁচটি কোম্পানি ইতিমধ্যেই তাদের টেন্ডার জমা দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷

১৯৪৩ সালে যাত্রা শুরু করে এখনকার এই রবীন্দ্র সেতুর৷ তারপর থেকে যানবাহন ও মানুষের ভার বহন করে চলেছে ঐতির্যবাহী এই সেতু৷ প্রতিদিন গড়ে এই ব্রিজের উপর দিয়ে একলক্ষ গাড়ি এবং দেড় লক্ষ পথচারি যাতায়াত করে৷ এই ব্রিজটি ১৯৬৫ সালে রবীন্দ্র সেতু বলে নতুন নামকরণ করা হয়৷ যদিও এখনও হাওড়া ব্রিজ বলেই বেশির ভাগ মানুষের কাছে পরিচিত৷

সুত্রের খবর এলএডি লাইট দিয়ে এই সেতুকে নতুন রূপ দিতে প্রায় ১৫ থেকে ১৯ কোটি টাকা খরচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বিনীত কুমার বলেন, ”এই লাইটের থিম উপলক্ষ্য অনুযায়ী পাল্টানো যাবে৷ স্বাধীনতা দিবস হোক কিংবা দোল, প্রতিটি উপলক্ষ্য অনুযায়ী এলইডি লাইটের মাধ্যমে হাওড়া ব্রিজের সাজ সজ্জার বদলানো যাবে৷’’

তিনি আরও জানান, খুব শিগগির এই কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে ৷ এই আলোকসাজ টুরিস্টদের বিশেষ ভাবে আকর্ষিত করবে৷ নতুন আলোর সাজে বিদ্যাসাগর সেতু থেকেই রবীন্দ্র সেতুকে দেখা যাবে৷ ব্রিজের স্তম্ভ ও বর্ডারগুলি আলাদাভাবে চমকাবে৷ তবে এই সাজে ব্রিজের ঐতির্য্য কোনও ভাবে যাতে নষ্ট না হয়, সেই দিকেও নজর রাখবে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট কতৃপক্ষ৷

২০০৬ সালে হাওড়া ব্রিজকে সোডিয়াম ভেপারের আলোয় মো়ড়া হয়েছিল৷ তবে সেই আলো খুব শিগগির ক্ষিণ হয়ে যায় ৷ হুগলি নদীর উপর যখন এই ব্রিজটি তৈরি হয়েছিল, তখন এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ক্যান্টিলিভার ব্রিজ ছিল৷ তবে দুনিয়াজুড়ে আরও নতুন নতুন এমন ব্রিজ গড়ে ওঠায় বর্তমানে এই ব্রিজটি ষষ্ঠ স্থানে নেমে এসেছে৷ তবে এই সাজসজ্জার দিক থেকে এখনও অনেকটাই পিছিয়ে এই সেতু৷ হুগলি নদীতে উপর অবস্থিত এই ব্রিজ নতুন সাজের ভেলকি দেখিয়ে বিদেশি ব্রিজগুলিকে কতটা টেক্কা দিতে পারে এবার সেই দিকেই নজর রাজ্যবাসীর৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।