বাঙালির কাছে বিয়ে বাড়ি মানেই জমিয়ে সাজগোজ, নতুন পোশাক। সিল্ক বা রেশমের পোশাক শীতের সময়েও এক আলাদা মাধুর্য যোগ করে। কখনও শাড়ি,কখনও সালোয়ার, আবার কখনও বা স্কার্ট, স্টোল, র‍্যাপ প্রভৃতি। নানা রূপে আমরা সিল্ককে পাই। সেক্ষেত্রে মাথায় রাখা দরকার এই সিল্কের পোশাকের যত্নের দিকটাও ৷ যাতে বছরের পর বছর ধরে ওই সিল্কের পোশাকগুলি ব্যবহার করা যায় এবং এজন্য প্রয়োজনীয় যত্ন নেওয়া দরকার৷

এই বিষয়ে কলিকাতার এক শাড়ি বিপনি সুন্দরী শাড়ির অধিকর্তা গৌরব আগরওয়ালের পরামর্শ দিয়েছেন৷ তাঁর বক্তব্য, রেশম বলতে আমরা প্রধানত বুঝি নমনীয়তা, ঐতিহ্য, ঐশ্বর্য এবং উত্তরাধিকার।বাঙালী বাড়িতে আজও মা, ঠাকুমা, দিদাদের থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সিল্কের শাড়ির মালিকানা বদলে আসে। তবে যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হল এই শীতের শেষে যখন সিল্কের শাড়ির যত্ন নেওয়ার দিকটা৷

তিনি মনে করান, অনেকেই নিজের সিল্কের শাড়ি নিয়ে গর্ব করে থাকেন। কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরে সেগুলির সঠিক যত্ন করে আসছেন। এই বিষয়ে তাঁর পরামর্শ, মূলত সিল্কের শাড়ি আলমারিতে রাখা থাকে, ধোয়া, ইস্ত্রি করা এবং ভাঁজ করে রাখার জন্য বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়। আলমারিতে রাখার সময় এটিকে নরম কাপড়ের ওপর রাখা দরকার। অন্য কোনও কাপড়ের সঙ্গে নয়, একে আলাদা রাখতে হয়। ভারী জরির কাজ রয়েছে এমন শাড়িকে খোলা বাতাস না রাখাই ভাল। কারণ তেমন ভাবে রাখলে শাড়িতে যদি জরি থাকে তা ময়লা হয়ে যাওয়া বা রঙ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়।

শাড়িতে যে জড়ির কাজ থাকে সেগুলি কে যত্নে রাখার জন্য উচ্চমানের কাপড় ধোয়ার সাবান ব্যবহার করা উচিত। খুব কড়া কোনও রাসায়নিক এবং গরম জল ব্যবহার করা উচিত নয়। নিয়মিত শাড়ি গুলির ড্রাই ওয়াশ করাতে হবে। সরাসরি সিল্কের শাড়ির উপর আয়রন চাপানো একেবারেই উচিত নয়, দরকার হলে সুতির কাপড় চাপা দিয়ে আয়রন কড়া উচিত। এই কয়েকটি পদ্ধতি মেনে চললে আমার মনে হয়, সিল্কের শাড়ি অনেক বছর ভালো থাকবে বলে দাবি করেন তিনি।