দই সাধারাণত শরীর-স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। এতে থাকা ব্যাক্টেরিয়া হজম প্রক্রিয়ার জন্য ভালো। তাছাড়া দাঁত ও হাড়ও মজবুত করে। তবে রাতে দই খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক। তবু যদি দই খেতে চান, তাহলে তাদের কয়েকটি ভিন্ন উপায়ে দই খাওয়ার টিপস রয়েছে।

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে রাতে দই খাওয়া ঠিক নয়। কেননা এটি মিউকাস বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তবে কেউ চাইলে দইয়ের বদলে ঘোল খেকে পারেন।

এছাড়া, দিনের বেলায় দই খেলে তা চিনি ছাড়া খান এবং যদি রাতে দই খেতে চান তবে তাতে চিনি অথবা কালো গোলমরিচ মিশিয়ে খান। তাতে গ্যাস-অম্বলের আশঙ্কা কমবে। এটি হজমে সাহায্য করে এবং পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখে। আর দই হবে অবশ্যই ঠাণ্ডা। কখনই গরম দই খাওয়া ঠিক নয়।

রাতে দই খেতে চাইলে যেসব উপায়ে দই খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য সবথেকে ভালো।

দই চিড়ে: এটি পেটের জন্য বেশ ভালো খাবার। তাছাড়া গরমের দিনে দই চিড়া খাওয়া বেশ স্বস্তিদায়কও।

দইয়ের সঙ্গে চিনি: দইয়ের সঙ্গে এক চামচ চিনি মিশিয়ে খান, সারাদিন ভালো কাটবে।

ঘোল: প্রতিদিন দই খেতে চাইলে ঘোল করে খাওয়া যেতে পারে।

রাইতা: চাইলে এতে পেঁয়াজ, শসা, টমেটো ও অন্যান্য ভেষজ উপাদান মিশিয়ে নিতে পারেন, যা স্বাস্থ্যকরও বটে।

দই ভাত: রাতের বেলা যদি দই খেতেই হয়, তাহলে দই ভাত খাবেন। এই খাবারটি শরীরকে ঠান্ডা করার পাশাপাশি হজম ক্ষমতার উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
লস্যি বা বাটার মিল্ক: ঘরে পাতা দই যদি রাতের বেলা খেতে ইচ্ছে করে, তাহলে এক গ্লাস লস্যি বা বাটার মিল্ক কিন্তু খাওয়ার যেতেই পারে।

দই খেলে কী উপকার:

১. স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটি কমে:
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে দই খাওয়ার পর আমাদের মস্তিষ্কের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হয় যে মানসিক চাপ এবং অ্যাংজাইটি কমতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, বর্তমান সময়ে যেসব মরণ রোগগুলির কারণে সব থেকে বেশি সংখ্যক মানুষের প্রাণ যাচ্ছে, তার প্রায় সবকটির সঙ্গেই স্ট্রেসের যোগ রয়েছে।

২. ওজন কমে:
নিয়মিত এক বাটি করে দই খাওয়া শুরু করলে দারুন উপকার মিলবে। বিশেষত ভুঁড়ি কমাতে দইয়ের কোনও বিকল্প হয় না। ইউনিভার্সিটি অব টেনেসির গবেষকদের করা একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে নিয়মিত দই খাওয়া শুরু করলে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে, সেই সঙ্গে কর্টিজল হরমোনের ক্ষরণও কমে যায়। ফলে ওজন হ্রাসের সম্ভাবনা প্রায় ২২ শতাংশ বেড়ে যায়।

৩. হাড় এবং দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:
দুধের মতো দইয়েও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস এবং ক্যালসিয়াম। এই দুটি উপাদান দাঁত এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:
দইয়ে উপস্থিত উপকারি ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করার পর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটাই শক্তিশালী করে দেয় যে সংক্রমণ থেকে ভাইরাল ফিবার, কোনও কিছুই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

৫. ভিটামিনের ঘাটতি দূর হয়:
নিয়মিত দই খাওয়া শুরু করলে শরীরে পটাশিয়াম, ফসফরাস, আয়োডিন এবং জিঙ্কের ঘাটতি দূর হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ভিটামিন বি৫ এবং বি১২-এর মাত্রাও বাড়তে থাকে।