ক্যাপসিকামের চাহিদা উত্তরোত্তর বাড়ছে৷ আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কখন যেন চুপিসারে জায়গা করে নিয়েছে এই ক্যাপসিকাম৷ তবে বাড়ির ছাদে, বা টবে একটু আধটু চাষবাসও পছন্দ করেন, তাঁরা কিন্তু অনায়াসে ধনে, লঙ্কা, লেবু, টমেটোর পাশাপাশি ক্যাপসিকামেরও চাষ করতে পারেন৷ আমাদের দেশে ইয়োলো ওয়ান্ডার্স, ক্যালিফোর্নিয়া ওয়ান্ডার্স ছাড়াও অনেক হাইব্রিড প্রজাতিও রয়েছে৷

সাধারণত, বেলে দোআঁশ বা দোআঁশ মাটি বা মাটির বিক্লপ নারিকেলের খোসার ডাস্ট বা কোকোপিট ক্যাপসিকাম চাষের জন্য ভালো। তবে এই গাছের সহ্যশক্তি কম৷ গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত সব সময়ই এর চাষ সম্ভব৷ তবে আলো-আঁধারি রয়েছে এমন স্থানে ক্যাপসিকামের টবটি রাখুন৷

আরও পড়ুন: মুসুম্বি চাষ করে তাক লাগালেন মাথাভাঙ্গার কৃষক

চারা রোপণ ও সার প্রয়োগ
১) ২২ থেকে ৩০ দিন বয়সের চারা প্রয়োজন।
২) একটি টবে একটি গাছ রোপণ করা উচিৎ৷ ।
৩) মাটি বেছে নিয়ে তার সঙ্গে ১/৩ অংশ গোবর, ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম এবং জিংক অক্সাইড ভালো করে মেশানোর পর টবে প্রয়োগ করতে হবে।
৪) চারা রোপণের পর ইউরিয়া ও এমওপি দু’ভাগে ২০ ও ৩০ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে।
৫) সূর্যের তাপ কমে এলে, বিকেলের দিকে চারা রোপণ করা ভালো।
৬) এক সপ্তাহ পর পর গাছে কেঁচো জৈব সার দশ লিটার জলে এক বা দুই রাত ভিজিয়ে পরের দিন এক কাপ করে সার মেশানো জল দিতে পারেন৷

আরও পড়ুন: কৃষকদের বিকল্প আয়ের সন্ধান দিতে জৈব চাষের উদ্যোগ রাজ্যের

পরিচর্যা
১) আগাছা দেখলেই উঠিয়ে ফেলে দিন৷
২) প্রয়োজন মতো জল দিন, বেশি জল দিলে এই নরম গাছ পচে যেতে পারে৷
৩) পোকামাকড় বা পিঁপড়ে গাছের ক্ষতি যেন না করতে পারে তাও নজরে রাখতে হবে৷
৪) ভাইরাসজনিত রোগে পাতায় হলদে দাগ পড়ে এবং পাতা কুঁকড়ে আসে। এমন হলে গাছটি উঠিয়ে বা পুড়িয়ে ফেলা ছাড়া উপায় নেই।

তবে এসব চাষ করতে গেলে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে তবেই চাষ করা ভালো৷ তাতে ভালো ফলন হয় এবং বিষয়টি ব্যয়বহুলও হয় না৷