কার্গিল যুদ্ধে ভারতের জয়ের ইতিহাস সবারই জানা। আর এই জয়ের পিছনে সবথেকে বড় অবদান ছিল এয়ার ফোর্সের। এয়ারফোর্সের সাপোর্ট ছাড়া এই জয় সম্ভব হত না। এয়ারফোর্সের অপারেশন সফেদ সাগরের জন্যই জয় সহজ হয় ভারতের। ৮ অক্টোবর, এয়ারফোর্স ডে-তে ভারতীয় বায়ুসেনার এই সাফল্যের ইতিহাস জেনে নিন।

কার্গিল যুদ্ধ চলাকালীন শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মোতায়েন করা হয়। ১৯৯৯-এর ২৫ মে প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী এয়ারফোর্সকে নির্দেশ দেন, যাতে দেরি না করেই আক্রমণ করা হয়। তবে লাইন অফ কন্ট্রোল পার করার নির্দেশ মেলেনি তখনও। একাধিক যুদ্ধবিমান নামানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে। ছিল  Mig-21, Mig-23 and the Mig-27-এর মত স্ট্রাইক এয়ারক্রাফট। ২৬ মে শত্রুপক্ষের ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণ শুরু করে এয়ারফোর্স। সেনা ঘাঁটি, যুদ্ধের অস্ত্র আসার পথ ও উপকরণের স্তূপ লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হয়।

দুঃখজনকভাবে ভেঙে পড়ে দুটি Mig-27. মিসাইল ছুঁড়তে গিয়ে নষ্ট হয় একটি Mig-21. অপারেশনের তৃতীয় দিনে মিসাইলের আঘাতে ভেঙে পড়ে একটি Mi-17  হেলিকপ্টার। সুরক্ষার অভাবেই সেইসময় বিমানবাহিনীর এই ক্ষতি হয়। কিন্তু, এই যুদ্ধ থেকেই শিক্ষা নেয় ভারতীয় বায়ুসেনা। পেভওয়ে লেজার গাইডেড বম্ব দিয়ে আঘাত হানা হয় শত্রুপক্ষের বাংকারে। বিশ্বে প্রথম এত উচ্চতা থেকে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।

আক্রমণের মাধ্যমে পাকিস্তান আর্মিকে কোণঠাসা করে ফেলেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। কমব্যাট এয়ার প্যাট্রল ডিউটিতে ছিল Mig-29. যার ন্যাটোর দেওয়া নাম ফালক্রাম। F-16-এর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে R77 মিসাইল। এয়ারফোর্সের উপর তাদের আঘাত থেকে বাঁচিয়েছিল Mig-29. ভয়ের চোতেই যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালায় পাক এয়ারফোর্স। শেষ পর্যন্ত ঝয় হয় ভারতেরই।