শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত:  ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিচ্ছে রাজ্যের শাসক দল। বাদ যাচ্ছে না রাজ্যে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে উঠে আসা প্রধান বিরোধী দল বিজেপিও। কেউ বলছেন পাঁচ টাকায় ডিম ভাত দেওয়ার কথা কেউ বলছেন পাঁচ টাকায় তিন বেলা রান্না করা খাবার দেওয়ার কথা। তবে শর্ত একটাই সবাই বলছেন, “আমায় ভোট দিন।” তবে করোও ভাষণে স্থায়ী উন্নয়নের কথা নেই । বিজেপি ও তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে এই জায়গায় ভীষণ মিল। কিন্তু এভাবে কী মানুষের সম্মান নষ্ট করা যায়? সমাজের বিশিষ্টরা বলছেন এটা কোনওভাবেই রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা করতে পারেন না।

তাই তৃণমূল ও বিজেপি-র এই জাতীয় ভাষণে সমাজের বিশিষ্টজনেরা বেশ ক্ষুব্ধ। সমাজকর্মী মীরাতুন নাহারকে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “যারা নেতা বা নেত্রী হতে চান, তার জন্য ভোট ভিক্ষা চাইছেন। তাঁরা ভোটের বদলে এভাবে বিনা পয়সায় ইটা দেব, বিনা পয়সায় ওটা দেব বলতে পারেন না। এটা দেব ওটা দেব বলে গরিব মানুষদের প্রলোভিত করার অধিকার করোও নেই। ভোটে জিতে ক্ষমতায় এলে মানুষের জন্য পরিষেবা দিতে মানুষের দ্বারা নির্বাচিত সরকার বাধ্য। তাই ভোট জেতার জন্য যারা মানুষকে প্রলুব্ধ করছেন তাঁরা অন্যায় করছেন। তাঁরা মানুষকে কী ভাবেন? এতো সাহস কি করে পান তাঁরা?”

এই প্রসঙ্গে মীরাতুন নাহার আরও বলেন, “আসলে মানুষের এতো অভাব, সরকার তো সেটা থেকে মানুষের পরিত্রানের ব্যবস্থা করে নি। তাই এই অভাবটাকে সেটাকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক নেতারা মানুষের কাছ থেকে ভোট কিনছেন। মানুষের সঙ্গে এভাবে কোন সাহসে কথা বলছেন নেতারা ? আজ যারা ভোট চাইছেন তাঁরা যদি নির্বাচনে জিতে মন্ত্রী হন তাহলে সাধারণ মানুষকদের পরিষেবা দিতে তারা বাধ্য। দেশের মানুষের পরিষেবা পাওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার। আসলে মানুষের অভাবকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এসব কথা বলছে নির্লজ্জ্যের মতো। এটা বলা যায় না।”

এই প্রসঙ্গে সাহিত্যিক কিন্নর রায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা। কোনও রাজনৈতিক দলের কোনও নেতা পারেন না নির্বাচনী জনসভায় এসে এভাবে মানুষকে প্রলোভন দেখতে। নেতারা যে বলছেন ৫ টাকাতে ডিম ভাত দেবেন, মহিলাদের ৫০০ টাকা হাত খরচা দেবেন, কেউ আবার বলছেন পাঁচ টাকাতে তিন বেলা রান্না করা খাবার দেবেন তার অর্থ ১৯৫২ সালের পর থেকে দেশের মানুষ ভিখারি হয়ে আছে। কেউ বলছেন বিনাপয়সায় রেশন দেবেন। কেউ বলছেন বিনা পয়সায় স্বাস্থ্য পরিষেবা দেবেন। আমার প্রশ্ন যিনি নির্বাচনে প্রার্থী তিনিও একটি ভোট দেন আর যাদের এসব বলছেন তাঁরাও প্রত্যেকে একটি করেই ভোট দিতে পারেন। তাহলে এই সাহস নেতারা পাচ্ছেন কোথায়? আসলে চটজলদি ভোটে জেতার এসব কৌশল। মানুষের দারিদ্র্য নিয়ে এই খেলা বন্ধ হওয়া উচিত। ভোট চাইতে এসে এভাবে মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া যায় না।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।