বিশ্বজিৎ ঘোষ: কত পরিমাণ জলের প্রয়োজন ২০২৫-এ, কত পানীয় জল-ই-বা লাগবে কল্লোলিনী এই তিলোত্তমার জন্য?

দাবি করা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে এই মহানগরীতে বেড়েছে পানীয় জলের যোগান৷ আর, ২০২৫-এ কলকাতার জন্য কত পরিমাণ পানীয় জলের প্রয়োজন, সে বিষয়েও বিবেচনা করা হয়েছে৷ আর, ওই বিবেচনার জেরেই বলা হয়েছে, ২০২৫-এ পানীয় জলের সংকটে পড়বে না কল্লোলিনী এই তিলোত্তমা৷কারণ, তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷

ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বটে৷ তবে, ওই দাবির পালটা দাবিও করা হয়েছে৷ পালটা ওই দাবি-যুক্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ এখনও অনেক দূর৷ অথচ, এখন এই ২০১৫-য় কলকাতার সব বাসিন্দার জন্য নেই বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংস্থান৷ বিভিন্ন মহল থেকে এমনও বলা হচ্ছে, ২০২৫-এ কলকাতায় কত পরিমাণ পানীয় জলের প্রয়োজন, সে বিষয়টি বিবেচিত হতেই পারে৷ তবে, তার আগে বর্তমান পরিস্থিতির উন্নয়ন অধিক প্রয়োজন৷

এমনিতেই কথা কেউ রাখে না৷ তা সত্ত্বেও, কলকাতায় এ বার গড়া হচ্ছে সারমেয়র কবরস্থান৷ তার উপর, লজ্জায় জিভ কেটে তিলোত্তমার জঞ্জাল ঢাকবে সিসিটিভি৷এ দিকে আবার, ফেসবুকে কলকাতায় এখন টার্গেট স্মার্ট জেনারেশন৷ এবং, লন্ডন নয় তিলোত্তমায় বিবিধের মিলন চান মোদী!  আর, এ সবের মধ্যেই ২০২৫-এ এই মহানগরীর জন্য প্রয়োজনীয় পানীয় জলের আশ্বাস এবং প্রতিশ্রুতি৷

আর, এমনই বিভিন্ন ধরনের আশ্বাস-প্রতিশ্রুতি মিলছে কলকাতা পুরসভার আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে৷ ১৮ এপ্রিল কলকাতায় পুরভোট৷ পশ্চিমবঙ্গের ছোট লালবাড়ি এ বার কোন রং-মহলের দখলে আসবে, তা নিয়েই এখন লাল-গেরুয়া-সবুজ রং এবং ত্রিবর্ণ মহলের মধ্যে দাবি-অভিযোগ-আশ্বাস-প্রতিশ্রুতি আর তার পালটা দাবি-অভিযোগ-আশ্বাস-প্রতিশ্রুতির জোরদার লড়াই চলছে৷ সব মিলিয়ে, আশ্বাস-প্রতিশ্রুতি বনাম আশ্বাস-প্রতিশ্রুতি৷

প্রতিটি রং-মহলই প্রত্যাশায় রয়েছে যে, সেই মহলই দখল করবে এ বার ছোট লালবাড়ির সিংহাসন৷তবে, সবুজ রং-মহলের প্রত্যাশা যেন আরও বেশি৷ তেমনই প্রকাশ পাচ্ছে ওই রং-মহলের হাবভাবেই৷ কোনও কোনও ক্ষেত্রে এমনও প্রকাশ পাচ্ছে, ছোট লালবাড়ি যেন ফের দখলে এনে ফেলেছে ওই মহল৷ শেষ পর্যন্ত কোন রং-মহলের দখলে আসবে এ বার কলকাতা পুরসভা, সে বিষয়ে অবশ্য মতামত জমা হবে ১৮ এপ্রিল, ইভিএমে৷

তবে, কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের জন্যই ওই সবুজ রং-মহল অর্থাৎ, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে, কলকাতায় পানীয় জলের যোগান গত পাঁচ বছরে বেড়েছে৷ আর, ২০২৫-এ এই মহানগরীতে কত পরিমাণ পানীয় জলের প্রয়োজন, তা ভেবে নিয়ে পরিকল্পনাও করেছে কলকাতা পুরসভা৷ একই সঙ্গে, এ রাজ্যের শাসকদলের তরফে অবশ্য স্বীকারও করে নেওয়া হয়েছে যে, মধ্য কলকাতা সহ এই শহরের বিভিন্ন অংশে পানীয় জলের সংকট রয়েছে৷

এ দিকে, রাজ্য বিজেপি-র তরফে জানানো হয়েছে, যে কোনও পুরসভার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পানীয় জলের পরিষেবা৷কিন্তু, কলকাতার বিভিন্ন অংশ এখনও বিশুদ্ধ পানীয় জলের পরিষেবা থেকে বঞ্চিত৷ যে কারণে, ‘সকলের জন্য পানীয় জল’ পরিষেবা চালুর দাবিও করেছে রাজ্য বিজেপি৷ একই সঙ্গে ওই গেরুয়া রং-মহলের তরফে জানানো হয়েছে, এই মহানগরীতে অপরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহের বিষয়টি বড় মাপের কেলেঙ্কারি৷

ওই কেলেঙ্কারির পক্ষে দাবি, অপরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবহার বন্ধ করে কলকাতায় যাতে পরিশ্রুত পানীয় জলের পরিষেবা চালু করা সম্ভব হয়, সেজন্য ১৯৭৭-এ পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকারকে বড় অংকের অনুদান দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক৷ কলকাতায় অপরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবহার বন্ধ না হলে, অন্য কোনও অনুদান মিলবে না বলেও সেই সময় শর্ত রেখেছিল বিশ্বব্যাংক৷ রাজ্য বিজেপি-র দাবি, গত পাঁচ বছর ধরে কলকাতায় ফের অপরিশ্রুত জলের ব্যবহার শুরু হয়েছে৷ আর তাই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র মান অনুযায়ী এই মহানগরীতে পরিশ্রুত পানীয় জলের পরিষেবা চালুর দাবি করেছে রাজ্য বিজেপি৷

তবে, সবুজ রং-মহলের প্রতি ত্রিবর্ণ মহলের প্রদেশ সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর প্রশ্ন, কলকাতার ছোট-বড় বিভিন্ন বস্তি সহ এই শহরের প্রতিটি বাড়িতে কেন এখনও পৌঁছল না বিশুদ্ধ পানীয় জল? একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, জওহরলাল নেহরু ন্যাশনাল আরবান রিনিউয়াল মিশন (জেএনএনইউআরএম) প্রকল্পে ২০১০ থেকে ২০১৪-র মধ্যে কলকাতা পুরসভাকে কোটি কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল৷ওই টাকায় পরিশোধিত পানীয় জল সহ নিকাশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং বস্তি, রাস্তা, পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথাও ছিল৷ কিন্তু, পরিকল্পনার অভাবে বহু প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি৷ টাকা ফেরত চলে গিয়েছে৷ত্রিবর্ণ মহলের প্রদেশ সভাপতির প্রশ্ন, বিশুদ্ধ পানীয় জলের পরিষেবা প্রদানে কেন কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ কোটি কোটি টাকা কাজে লাগাতে পারল না তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত কলকাতা পুরবোর্ড?

সবুজ রং-মহল আবার অভিযোগ করেছে লাল রং-মহলের বিরুদ্ধে৷ এবং, একই সঙ্গে সবুজ রং-মহলের দাবি, পানীয় জলের সমস্যার সমাধানে ২০০০ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত কলকাতা পুরবোর্ড পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল৷ পরবর্তী সময়ে বামফ্রন্ট পরিচালিত পুরবোর্ডের ব্যর্থতায় কলকাতায় পানীয় জলের সমস্যা তীব্র হয়েছে৷ তবে, সেই সমস্যা সমাধানের জন্য সবুজ রং-মহলের বিদায়ী পুরবোর্ড প্রকল্প গ্রহণ করেছে৷ ওই প্রকল্পের কাজ যে এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, তাও অস্বীকার করেনি সবুজ রং-মহল৷

পরিস্থিতি এমন৷ অথচ, ২০২৫-এর কথা ভেবে কাজ করছে এ রাজ্যের শাসকদল৷ এমনই দাবি করে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বলা হয়েছে, ২০২৫-এ কলকাতায় পানীয় জলের প্রয়োজন যে আরও বাড়বে, সেটা ভেবে পলতায় প্রতিদিন ২০ মিলিয়ন গ্যালন জল উৎপাদনের জন্য কাজ চলছে৷ গার্ডেনরিচে গঙ্গাবক্ষ থেকে প্রতিদিন ১৫০ মিলিয়ন গ্যালন জল উত্তোলনের জন্যও কাজ চলছে৷ প্রতিদিন অতিরিক্ত ১৫ মিলিয়ন গ্যালন জলের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে৷ শুধুমাত্র তাই নয়৷ সবুজ রং-মহলের তরফে দাবি করা হয়েছে, প্রতিদিন ৫০ মিলিয়ন গ্যালন জল উৎপাদনের জন্য গার্ডেনরিচে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজও চলছে৷

==================================================

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

জীবে প্রেম কি আদৌ থাকছে? কথা বলবেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ অর্ক সরকার I।