দেবময় ঘোষ, কলকাতা: কমরেড জ্যোতি বসু কতবার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন? প্রশ্ন তুলেছে স্বাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)৷ স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে সিপিএমের পক্ষ থেকে স্যোশাল মিডিয়ায় Picture Message এর মাধ্যমে প্রচার চালানো হয়েছে, আরএসএস ভারতবিরোধী৷ ভারতীর জাতীয পতাকাকেও সম্মান করে না৷ দ্বিতীয় সরসঙ্ঘচালক মাধব সদাশিব গোলওয়ালকরের একটি উক্তিকে স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে সিপিএম৷ গোলওয়ালকরের উক্তিটি ছিল, ‘‘ভারতীয় তেরঙ্গা গ্রহণ করবে না হিন্দুরা৷ হিন্দুরা ওই পতাকাকে সম্মানও করবে না৷ তিন সংখ্যাটাই অশুভ৷ তেরঙ্গা পতাকা দেশের উপর ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলবে৷’’

সিপিএম-কে পালটা জবাব দিকে মাঠে নেমেছে আরএসএস৷ সঙ্ঘের রাজনৈতিক শাখা বিজেপিও বিষয়টি নিয়ে সবর হয়েছে৷ আরএসএস-এর দক্ষিণবঙ্গের প্রচারপ্রমুখের বক্তব্য, সিপিএম ইতিহাস নিয়ে চর্চা করে বটে, কিন্তু সত্যটা স্বীকার করতে চায় না৷ ভগিনী নিবেদিতা জাতীয় পতাকা যেভাবে পরিকল্পনা করেছিলেন, তার মাঝে ছিল বজ্রপাত এবং দু’ধারের পাড়ে ১০৮টি প্রদীপ৷ বজ্রপাতের মাঝে লেখা বন্দেমাতরম৷ ১৯০৬ সালে জাতীয় কংগ্রেসের সভায় ওই পতাকা পেশ করা হয়৷ তবে পরবর্তীকালে পতাকা কমিটি তেরঙ্গাকেই গ্রহণ করার পর সঙ্ঘও সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিল৷ যতদিন পতাকা নিয়ে বিতর্ক ছিল, ততদিনই বিরোধীতা করেছে আরএসএস৷ পতাকা নির্ধারিত হওয়ার পর ওই পতাকাতেই মেনে নেওয়া হয়েছে৷ ওই বিতর্ক শেষ হয়েছে বহু দশক আগে৷ এখন ওই প্রসঙ্গ টেনে আনার অর্থ কী? যা করা হয়েছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণদিত৷

সিপিএমের Picture Message -এর পালটা জবাব দিতে আরএসএস, কমিউনিস্ট পার্টির ‘ভারতপ্রেম’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে৷ তাঁদের বক্তব্য, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু কতবার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন? স্বাধীনতা দিবসে আমলাদের দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করিয়েছেন তিনি৷ উপমুখ্যমন্ত্রী বিনয় চৌধুরী পতাকা উত্তোলন করতেন৷ মুখ্যমন্ত্রীত্বের শেষ কয়েক বছর জ্যোতিবাবু পতাকা উত্তোলন করেছিলেন৷’’ সঙ্ঘের এক প্রচারপ্রমুখের কথায়, ‘‘কমিউনিস্টরা বলেছিল ‘আগে পাকিস্তান মানতে হবে, তবেই ভারত স্বাধীন হবে৷’ ‘ইয়ে আজাদি ঝুঠা হ্যায়’৷ স্বাধীনতার ধারণা, বিদেশী শাসকের হাত থেকে মুক্তি, এই সব বিষয়গুলি ওদের কাছে স্পষ্ট নয়৷’’

‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র ছবি, গুগল ইমেজ থেকে প্রাপ্ত।

কথা প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ১৯৩১ সালের ২ এপ্রিল করাচিতে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, পতাকা সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি ৭ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়৷ ওই কমিটিতে ছিলেন, জওহরলাল নেহরু, বল্লভভাই প্যাটেল, মৌলানা আব্দুল কালাম আজাদ, মাস্টার তারা সিং, প্রিন্সিপাল ডি বি কালেকর, ড. এন এস হারদিকার, ড. পট্টভি সীতারামাইয়া৷ তবে তেরঙ্গা নিয়ে যাবতীয় অভিযোগ তাঁরা বাতিল করেন৷ কারণ ওই অভিযোগগুলিকে তাঁদের ‘সাম্প্রদায়িক’ মনে হয়েছিল৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।