কথিত আছে হনুমান পুজো করলে শনির দৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়৷ তার বেশ কিছু কারণও রয়েছে৷ শনির দৃষ্টি পড়া কথাটির অর্থ খারাপ সময় যাচ্ছে অর্থাৎ তা অমঙ্গলেরই প্রতীক৷ সেই খারাপ দৃষ্টি কাটাতে হনুমান পুজো কেন করার দরকার তারও নানা ব্যাখ্যা রয়েছে৷ আসলে উভয়ের মধ্যেকার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করলে এর উত্তর পাওয়া যায় ৷ এক নজরে দেখে নেওয়া যাক শনি-হনুমানের সম্পর্ক৷

প্রথমত, শনিদেব এবং হনুমান দু’জনেরই মধ্যে যোগসূত্র হলেন স্বয়ং শিব। হনুমান শিবের অবতার। অন্যদিকে শনিদেব শিবভক্ত এবং শিবের কৃপাতেই তিনি ক্ষমতাবান হয়েছেন।

দ্বিতীয়ত, ‘সূর্য সংহিতা’ অনুসারে, হনুমানের জন্ম শনিবারে।

তৃতীয়ত, বহু শাস্ত্রেই লেখা রয়েছে, হনুমানের গায়ের রঙ আবার শনিদেবের মতোন।

চতুর্থত, শনিদেবের পিতা সূর্যদেব হলেন আবার হনুমানের শিক্ষাগুরু।

পঞ্চমত, শনিদেবের সঙ্গে পিতা সূর্যদেবের একবার যুদ্ধ হয়েছিল। তখন সূর্যদেব হনুমানকে বিপুল ক্ষমতা দান করেছিলেন শনিদেবকে প্রতিহত করার জন্য৷

ষষ্ঠত, শনিদেবের আচরণ নিষ্ঠুর বলে প্রচারিত সেখানে হনুমান তুলনায় অনেক দয়ালু ও প্রেমময়।

সপ্তমত, শনিদেবের জন্ম অগ্নি থেকে এবং হনুমান আবার পবনপুত্র। এই কারণেও শনিকে স্তিমিত করে দিতে পারে হনুমান৷

অষ্টম, যেহেতু হনুমান শনিদেবকে রাবণের হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন সেহেতু হনুমানের প্রতি কৃতজ্ঞ শনিদেব।

নবমত, হনুমান ও শনিদেবের মধ্যেকার দ্বন্দ্বের আরও একটি কারণ হল শনিদেব হনুমানকে তাঁর প্রভাবগ্রস্ত করার জন্য তাঁর স্কন্ধে আরোহণ করতে গেলে হনুমান তাঁর দেহকে এতটাই বাড়িয়ে নেন যে, শেষ পর্যন্ত শনি বিপর্যস্ত হন এবং তৎক্ষণাৎ হনুমানকে রেহাই দেন।

দশমত, শনিদেব ও হনুমানের মধ্যে একটা একটা আধ্যাত্মিক যোগও রয়েছে বলা হয়। একদিকে হনুমান আত্মত্যাগের প্রতীক অন্যদিকে শনিদেবে অহংবোধকে চিহ্নিত করেন। আবার অহং থেকে জাত কর্মকে খণ্ডণ করতে পারে একমাত্র বিনয় ও আত্মবিলোপ। সেটা হনুমানের ছাড়া আর কেউ করতে পারেন না৷