ফাইল ছবি
বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ রবীন চক্রবর্তী৷

কলকাতা: বিশ্বজুড়ে করোনা এখন মহামারীর আকার ধারণ করেছে৷লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা৷এই অবস্থায় কারও হৃদরোগ, মধুমেয়, রক্তে উচ্চচাপ ইত্যাদি থাকলে কেমন করে সুরক্ষিত রাখবেন নিজেদের ৷ সেই বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন দ্য বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্সের স্বাস্থ্য বিষয়ক কমিটির চেয়ারপার্সন তথা বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ রবীন চক্রবর্তী৷ ৷

ডাঃ রবীন চক্রবর্তীর মতে, হৃদযন্ত্রে অনেকগুলি কারণে ‌করোনা ভাইরাস কোভিড–১৯–এর সংক্রমণ হতে পারে। তার মধ্যে একটা হল সরাসরি সেটি হৃদযন্ত্রকে আক্রান্ত করতে পারে। সেটা আবার ৩–৪ রকম ভাবে করতে পারে। এর মধ্যে একটা হল মায়োকার্ডাইটিসের কারণে প্রদাহ (‌ইনফ্লেমড)। এটা প্রথমেই হৃদযন্ত্রকে আক্রান্ত করে না। ফুসফুস এবং অন্যান্য অঙ্গে সংক্রমণ হলে এমন হয়। তবে এটা খুব কম মানুষের হয়।

পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, ওই মায়োকার্ডাইটিস থেকে হৃদযন্ত্রের পেশির প্রদাহের বিষয়টি। আর এখান থেকে কার্ডিয়াক এরিথমিয়া হতে পারে। আর যেটা হতে পারে সেটা হল এটি হার্টকে আঘাত করতে পারে অর্থাৎ অ্যাকিউট কার্ডিয়াক ইনজুরি। তবে চিন্তার কথা হল যাঁদের হৃদরোগ রয়েছে অথবা মধুমেহ, মেলাইটাস, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক হয়েছে, বাইপাস সার্জারি হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে কোভিড–১৯ আরও বেশি সমস্যা তৈরি করতে পারে।‌

রবীনবাবুর মতে, এক্ষেত্রে আর একটা দিক হল প্রবীণ মানুষদের সমস্যা। দেখা যাচ্ছে, এমন মানুষ, যাঁদের মধুমেহ, উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, যাঁরা নিয়মিত ধূমপান করতেন, তাঁদের কোভিড–১৯–এ আক্রান্ত হওয়ার সময় যে সব উপসর্গ দেখা যায়, সেগুলি দেখা যাচ্ছে। হয়তো একটি জ্বর হল বা একটু কাশি হল। সেখান থেকে নিউমোনিয়া হওয়ার কথা। তা না হয়ে তাঁদের বুকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়, চাপ চাপ ভাব এল, তার ফলে মনে হতে পারে সেটা একটা হার্ট অ্যাটাক।

তখন একটা ইসিজি করতে দেখা যায়, সেটি হার্ট অ্যাটাকের ইসিজি–র মতো দেখতে বা কার্ডিয়াক এনজাইম ট্রপোনিন টেস্ট, সিপিকে–এমবি অনেক সময় বেশি থাকে। অনেক সময় ভুলবশত হার্ট অ্যাটাক রোগীর মতো চিকিৎসা হতে পারে। তো সে ক্ষেত্রে হয়তো জানা যায়, সেটা হার্ট অ্যাটাক নয়। সেটা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। অনেক সময় এই সব রোগীদের ক্ষেত্রে একটু জ্বর, কাশি হওয়ার পরই এমন একটা কষ্ট শুরু হল, মনে হয় যে সেটা হার্টের অসুখ।‌

তিনি জানান আর একটা দিক হল, আমরা কিছু কিছু ওষুধ খাই, যেমন উচ্চ রক্তচাপের। সেগুলি নিয়ে অনেক আলোচনা আছে। সেগুলি করোনা ভাইরাসকে ত্বরাণ্বিত করে কিনা, বা উপসর্গকে বাড়িয়ে তোলে কিনা, সেটা কিন্তু পুরোপুরি ঠিক নয়। আবার অনেকে প্রপিল্যাক্সিসের জন্য হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন খান, সে ব্যাপারে জানাতে হবে। যে সব রোগীদের ইসিজি–তে প্রাথমিক ভাবে কিছু জিনিস ধরা পড়েছে, যেমন লং কিউটি সিনড্রোম আছে। এবার সেগুলি পরীক্ষা না করে যদি তাঁদের হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন খাওয়ার কথা বলা হয়, তাঁরা নিজেরাই যদি হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন খেয়ে নেন, তাঁদের ইসিজি সম্পর্কে কোনও সমস্যার কথা না জেনে চিকিৎসা শুরু হয়ে যায়, সেটা কিন্তু হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে।‌

‌সুতরাং, হৃদযন্ত্র করোনা ভাইরাস থেকে নানা ভাবে আক্রান্ত হতে পারে, বিকল হতে পারে। তার একটা হতে পারে সরাসরি ভাইরাসের আক্রমণে পড়া। যদিও তাঁর সম্ভাবনা খুব কম। এটা ৩–৪ শতাংশের বেশি নয়।এছাড়া তিনি জানান, যাঁদের ইতিমধ্যে হার্টের কোনও অসুখ আছে। তাঁদের যদি করোনা ভাইরাসের অসুখ হয় বা তাঁরা আক্রান্ত হন, তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এবং পরবর্তী কালে হৃদযন্ত্র সত্যিই যদি খুব ক্ষতিগ্রস্থ হয়, যেমন অ্যাকিউট কার্ডিয়াক ইনজুরি হয়, তার থেকে যদি হার্ট ফেলিওর হয়, অনেক সময় কার্ডিওজেনিক শক হতে পারে। এমন হলে সমস্যা অনেক বেশি হয়ে যায়। এটা সরাসরি মৃত্যুর কারণ হয়েও দাঁড়াতে পারে।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।