ইসলামাবাদ: আগামী ১১ আগস্ট পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই নেতা ইমরান খান। প্রেসিডেন্ট ভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান হবে সাদামাটা। কোনও বিদেশী নেতার উপস্থিতি পাওয়া যাবে না এই অই অনুষ্ঠানে৷ খুব কাছের কয়েকজন মানুষ থাকতে পারেন, এমনই ইচ্ছা ইমরান খানের৷ দল পিটিআইও সমর্থন করেছে সেই ইচ্ছাকে৷

পাক সেনার মদতপুষ্ট বলে নির্বাচনে জিতেছেন, এই তত্ব পিটিআই স্বীকার না করলেও, বিরোধীদের দাবি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না৷ তবে নির্বাচনে জয় লাভের পিছনে নাকি রয়েছে আরও তত্ব৷ এমনই দাবি করা হচ্ছে৷ বলা হচ্ছে পাকিস্তানের ৫ কোটি মানুষকে প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি বিরোধীদের৷

তাঁরা বলছেন সাধারণ নির্বাচনের আগে ভোট প্রচারে ইমরানের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল এই ৫ কোটি মানুষের ডেটাবেস ও মোবাইল অ্যাপ। যার সাহায্যে সহজেই সাধারণের কাছে পৌঁছে যেতে পেরেছেন ইমরান খান এবং তাঁর দল পিটিআই। তাই সেনার সাহায্যই শুধু নয়, প্রযুক্তিও সাহায্য করেছে ইমরান খানকে সাফল্য পেতে৷

পিটিআই জানাচ্ছে, নতুন যে প্রযুক্তি বা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, তার নাম ‘কনস্টিটিউয়েন্সি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বা সিএমএস। এই পদ্ধতির মাধ্যমে সহজেই পাঁচ কোটির বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া গিয়েছে৷ সাধারণ মানুষকে সহজেই বোঝানো গিয়েছে দলের লক্ষ্য ও ভাবধারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই প্রযুক্তির সরাসরি প্রভাব পড়ে ভোটারদের ওপর৷ খুব সহজেই ভোটারদের প্রভাবিত করা যায়৷ যার ছাপ পড়ে ভোট ব্যাঙ্কে৷ ঠিক সেই কাজটাই করেছে ইমরানের দল৷ পিটিআই কর্মী আমির মোল বলেন, এই পদ্ধতিতে তারাই প্রথম ভোট করলেন৷ এ ভাবে সাধারণের কাছে পৌঁছাতে পারার ফল পিটিআই পেয়েছে৷ মানুষ তাদের কথা শুনেছেন, বুঝেছেন।

কিন্তু জানেন কি? কীভাবে কাজ করে এই অ্যাপ? কী ভাবে ভোট দেবেন, সে বিষয়েও ভোটারদের সাহায্য করে এই অ্যাপ। পিটিআই সমর্থকরা সহজেই কী ভাবে ভোট দেবেন, কোন চিহ্নে ভোট দেবেন, সে বিষয়ে প্রিন্ট আউট বের করতে পেরেছেন। ফলে কোথাও কোনও ত্রুটি ছিল না৷

পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,অ্যাপে ভোটাররা পরিচয় পত্রের নম্বর লিখলেই তাদের বিষয়ে পুরো তথ্য উঠে এসেছে দলের কাছে। সেই ব্যক্তির বাড়ির ঠিকানা, পরিচয় সবই জানতে পারা গিয়েছে। আর এটাই সাহায্য করেছে দলের প্রচারে, দাবি আমিরের। সব তথ্য জানার পর প্রচারের বিষয়ে একটা রূপরেখা তৈরি করা হয়।

পিটিআই এই প্রযুক্তির বিষয়টি গোপন রাখতেই চেয়েছিল৷ তবে দলেরই অনেকে এই বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন৷ অনেক দেশেই বর্তমানে ভোট প্রচারে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি তথা মোবাইলকে বারবার কাজে লাগানোর ছবি দেখা গিয়েছে৷ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সবথেকে বেশি সাফল্য লাভ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ