স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: মধ্যযুগীয় বর্বরতার সাক্ষী থাকল বাঁকুড়া শহর। এক মহিলাকে শারীরিক, মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি মাথার চুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠল পরিবারের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে৷

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাজার রামকৃষ্ণ পল্লীর বাসিন্দা এক গৃহবধূর সঙ্গে পাড়ারই এক যুবকের সম্পর্ক তৈরি হয়। ওই গৃহবধূর এক কন্যা সন্তান রয়েছে৷ সম্প্রতি তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়েও করে। মঙ্গলবার নববধূকে সঙ্গে নিয়ে ওই যুবক নিজের বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করে৷ তখন তার পরিবারের লোকজন ওই মহিলাকে মারধর করে৷ পাশাপাশি জল ঢেলে দেয় ও মাথার চুল কেটে দেয় বলে অভিযোগ।

যদিও ওই যুবকের পরিবার এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের দাবি, ওই মহিলার আগে একবার বিয়ে হয়েছিল। এছাড়াও এই মুহূর্তে একাধিক জনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। এরপরেও ওই মহিলা তার চেয়ে বয়সে অনেক ছোটো তাদের বাড়ির ছেলেকে ‘ফুঁসলিয়ে’ নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ। ওই যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

নির্যাতিতা মহিলার দাবি, অতীতে ওই যুবকের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না। ওই যুবকের অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পর তাকে ওই যুবক নানাভাবে চাপ দিতে থাকে। বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করবে। এই অবস্থায় ওই যুবকের কথা ভেবে তার সঙ্গে পালিয়ে যায়। পরে তারা বিয়ে করে।

এদিন ওই যুবকের সঙ্গে তার বাড়িতে গেলে যুবকের মা, মাসি, জ্যঠিমা মারধর করে ও মাথার চুল কেটে দেয়৷ শুধু তাই নয় সিঁথির সিঁদুর সাবান দিয়ে মুছে শাঁখা, পলা ভেঙ্গে ফেলা হয় বলে তার অভিযোগ। যদিও ওই যুবকের মা তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মিথ্যে অভিযোগ আনা হচ্ছে। এরকম আমরা কিছুই করিনি।

স্থানীয় কাউন্সিলর অভিজিৎ দত্ত বলেন, ঘটনার কথা আমি শুনেছি। সত্যিই যদি ওই মহিলাকে এই ধরণের নির্যাতন করা হয় তা হলে আমি ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। এই ঘটনায় আইন আইনের পথে চলবে বলেই তিনি জানান