স্টাফ রিপোর্টার, বহরমপুর: প্রথমে অপহরণ, তারপর ধর্ষণ হতে হয় গৃহবধূকে৷ এই অপমানে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হয় সে৷ ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের নওদার মধুপুরের৷

জানা গিয়েছে, ওই এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূর বিয়ে হয় পাশের গ্রাম মধুপুর ডাঙাপাড়ায়। গত ১ মার্চ শ্বশুর বাড়ির পাশে একটি জলসা অনুষ্ঠান শুনতে যায় সে৷ সেখান থেকে ফেরার পথে তিন দুষ্কৃতী তাকে অপহরণ করে৷ এরপর ফাঁকা জায়গায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে তাঁকে৷ কোন রকমে দুষ্কৃতীদের হাত থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে শ্বশুর বাড়ি ফিরে যায় সে। কিন্তু শ্বশুর বাড়িতে সে এই ঘটনা জানালে তা মানতে চাইনি সদস্যরা।

আরও পড়ুন : অফিস ফেরত তরুনীকে রাস্তা থেকে তুলে নির্জন জঙ্গলে ধর্ষণের চেষ্টা

তারা এই ঘটনায় গৃহবধূকেই দায়ী করে এবং তাকে শ্বশুর বাড়ি ছাড়তে বলে। ঘটনার পরের দিনই মধুপুর ডাঙাপাড়ার শ্বশুর বাড়ি থেকে মধুপুরে বাবার বাড়ি চলে যায় সে। কয়েক দিন থেকে সেখানেই ছিল৷ বৃহস্পতিবার সকালে বাবার বাড়িতেই গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় সে। পরিবারের সদস্যরা তাকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় আমতলা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে৷ সেখানেই চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মৃতের ভাইয়ের অভিযোগ, তার দিদিকে অপহরণ করে যে তিন দুষ্কৃতি ধর্ষণ করেছে তাদের আড়াল করতে চাইছে শ্বশুর বাড়ির সদস্যরা। এই ঘটনা মেনে নিতে পারেনি আমরা বোন৷ তাই অভিমানে এবং অপমানে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে সে৷ পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। কি কারণে এই ঘটনা তার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।