স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: স্ত্রী ও শিশু পুত্রকে বালিশ চাপা দিয়ে খুন করে নিজে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। সোমবার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল বাঁকুড়ার সিমলাপাল থানা এলাকার কড়াকানালী গ্রামে। মৃতদের নাম বরুণ ডাঙ্গর (৩৬), মৌসুমী ডাঙ্গর (২৫) ও সূর্য ডাঙ্গর (৩)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বরুণ ডাঙ্গর সিমলাপালের একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করতেন। পারিবারিক অশান্তির জেরে তার স্ত্রী মৌসুমী ডাঙ্গর ছেলে সূর্যকে নিয়ে কিছুদিন ওন্দা থানা এলাকার ঘোলকুণ্ডা গ্রামে বাপের বাড়িতে থাকছিলেন। ঘটনার কয়েক দিন আগে তিনি ফের শ্বশুরবাড়িতে ফিরে এসেছিলেন। এদিন অনেক বেলা পর্যন্ত ওই বাড়ির কেউ ঘুম থেকে না ওঠায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। অনেক ডাকা ডাকির পর দরজা না খোলায় তাদের সন্দেহ বাড়ে৷

প্রতিবেশীরা সকলেই বিষয়টা গণ্ডগোলের বুঝতে পেরে পুলিশে খবর দেন৷ পুলিশ গ্রামে এসে ওই বাড়ি দরজা ভেঙে তিন জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, স্ত্রী ও শিশু পুত্রকে বালিশ চাপা দিয়ে খুন করে নিজে বাড়িতেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন বরুণ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

এদিন খবর পেয়ে মৃতা মৌসুমী ডাঙ্গরের বাপের বাড়ির লোকজন কড়াকানালী গ্রামে এসে তার শ্বশুর বাড়িতে ভাঙচুর করে৷ পাশাপাশি বৃদ্ধ শ্বশুরকে মারধর করে বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় খাতড়ার এসডিপিও বিবেক ভার্মা ও সিমলাপালের বিডিও রথীন্দ্রনাথ অধিকারী।

মৃত বরুণ ডাঙ্গরের বাবা অনিল ডাঙ্গর বলেন, সেভাবে কোন পারিবারিক অশান্তি ছিল না। বৌমা বাপের বাড়িতেই ছিল। চার দিন আগে ফিরে আসে। তারপর এই ঘটনা। তার বৌমার বাপের বাড়ির লোকজন তাকে মারধরের পাশাপাশি বাড়িতেও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে মৃতদেহ তিনটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, বাড়ি ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগে মৃতা মৌসুমী ডাঙ্গরের বাপের বাড়ির ন’জনকে আটক করা হয়েছে।