ফাইল ছবি

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : গরমে পুড়ছে পশ্চিমের তিন অঞ্চল। রাজ্যের সবথেকে খারাপ অবস্থা আসানসোল, বাঁকুড়া এবং পানাগড়ের। শীতের সময় শিল্পাঞ্চল হওয়ায় কম ঠাণ্ডা অনুভূত হয় আসানসোলে। কিন্তু পানাগড় এবং বাঁকুড়ায় ঠাণ্ডা এবং গরম দুয়ের প্রভাবই সবসময় অতিরিক্ত থাকে। গ্রীষ্মের শুরুতেই তার প্রমাণ মিলছে। এখনই তাপমাত্রার পারদ এই তিন অঞ্চলে ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়েছে।

তিনটি অঞ্চলই রাজ্যের পশ্চিম প্রান্তের জেলা। এদের মধ্যে সবথেকে বেশি পারদ চড়েছে বাঁকুড়ায়। সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আসানসোলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, প্রায় বলা যেতেই পারে। পানাগড়ের সর্বোচ্চ ছিল তাপমাত্রা ৪০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মেদিনীপুর এবং বর্ধমানের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তুলনামূলক ভালো শ্রীনিকেতনের পরিস্থিতি। এখানেও ঠাণ্ডায় যেমন ঠাণ্ডা গরমে তেমন গরম পড়ে প্রত্যেক বছর। বীরভূম জেলার এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হাঁসফাঁস অবস্থা কৃষ্ণনগরের। জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই অঞ্চলগুলিতে বৃষ্টির তেমন কোনও পূর্বাভাসও দেয়নি হাওয়া অফিস। ফলে মঙ্গলবার অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। উত্তর ২৪ পরগণা জেলার দমদমের তাপমাত্রা আবার কৃষ্ণনগরের থেকে বেশি। সোমবার এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তাপমাত্রার নিরিখে ওই অঞ্চলগুলির থেকে কলকাতার অবস্থা ভালো হলেও গত কয়েকদিনে ঘামে শহরের নাস্তানাবুদ অবস্থা। মঙ্গলবার সকালে শহরের শহরের আর্দ্রতার পরিমান সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৫৮ শতাংশ। বাতাসে পশ্চিম ও দক্ষিণ – পশ্চিমী বাতাসের প্রভাব রয়েছে ফলে প্রচুর আর্দ্র হাওয়া শহরে প্রবেশ করছে সমুদ্র থেকে ফলে ঘামে হাঁসফাঁস অবস্থা হচ্ছে শহরবাসীর। সকালে শহরের সর্বোচ্চ ৩৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিক। সর্বনিম্ন ২৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়া যা স্বাভাবিকের থেকে দুই ডিগ্রি বেশি।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর অবশ্য আজ শহরের হাঁসফাঁস অবস্থা থেকে মুক্তির পূর্বাভাস দিয়েছে। অতিরিক্ত আর্দ্রতা থেকে মঙ্গলবার বিকালে মুক্তি মিলতে পারে। সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যে কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনটাই জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। এতদিন শহরের তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছিল ৩৪ ডিগ্রির নীচে। যা স্বাভাবিকের থেকে কম ছিল। পয়লা বৈশাখ থেকেই হাঁসফাঁস অবস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে কলকাতার।