তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: দীর্ঘদিন ধরে হোষ্টেল বন্ধ, সমস্যায় ছাত্রীরা। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর পরিমল দেবী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের হোষ্টেল বন্ধ রযেছে৷ আবাসিক ও তাঁদের অভিভাবকরা জেলাশাসকের দফতরে গিয়েছিলেন৷ সমস্যা জানাতে গিয়ে বাধ্য হয়েই ফিরে আসেন তাঁরা৷ জন-অভিযোগ কেন্দ্রটি করোনা সংক্রমণের আতঙ্কে বন্ধ রাখা হয়েছে৷ তারই জেরে অভিযোগ জানাতে পারেননি আবাসিক ও তাঁদের অভিভাবকরা৷

বিষ্ণুপুরের পরিমল দেবী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের আভ্যন্তরীণ একাধিক সমস্যার জেরে সম্প্রতি হোষ্টেল বন্ধ রয়েছে। সবচেয়ে বেশী সমস্যায় পড়েছেন ও পড়ছেন আবাসিক মাধ্যমিক ও উচ্চ পরীক্ষার্থীরা। এদিন হোষ্টেলটি ফের চালুর দাবিতে প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন নিয়ে জেলাশাসকের দফতরে আসেন সমস্ত আবাসিক ও তাদের অভিভাবকরা।

ওই হোষ্টেলের আবাসিক সুমিতা সোরেন, শ্রাবণী সোরেনরা বলেন, গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে আমাদের হোষ্টেল বন্ধ। ঠিক কি কারণে বন্ধ আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। এই অবস্থায় তাদের বাড়ি থেকে যাতায়াত করে স্কুলে আসতে হচ্ছে। ফলে পড়াশুনার ভীষণ সমস্যা হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছে।

অভিভাবক লখীন্দ্র মাণ্ডি বলেন, গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে স্কুলের হোষ্টেল বন্ধ। যে ক’জন আবাসিক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিল তারা বাড়ি থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা। সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে বিষয়টি জেলাশাসককে জানাতে এসেও জানানোর সুযোগ না পেয়ে তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

বিষ্ণুপুর পরিমল দেবী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মৌটুসী চন্দ্র, হোষ্টেল নিয়ে সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, হোষ্টেল সুপারের কাছ থেকে আমি খরচের বিল, ভাউচার চাইলে উনি আমার নামে ভিত্তিহীন অভিযোগ করতে শুরু করেন। পরে ২০ ফেব্রুয়ারি উনি হঠাৎ করেই হোষ্টেল বন্ধ করেন। আমি অভিভাবক ও মিড-ডে মিল কর্মীদের সহায়তায় হোষ্টেল চালু রাখার চেষ্টা করি।

বর্তমানে অভিভাবকদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় ২৭ মার্চ পর্যন্ত হোষ্টেল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষে ফের হোষ্টেল পরিষেবা চালু হবে। একই সঙ্গে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে একজন সুপার, নাইট গার্ড সহ চার জন কর্মী নিয়োগ হলে হোষ্টেল পরিচালনার সুবিধা হবে বলে তিনি জানান।