সালভাডর: বলিভিয়াকে হারালেও ব্রাজিলের খেলায় সেই ঝাঁঝটাই ছিল না কোপার উদ্বোধনী ম্যাচে। বুধবার ভারতীয় সময় সকালে কোপার দ্বিতীয় ম্যাচে ভেনেজুয়েলার মুখোমুখি হয়েছিল আয়োজক দেশ। প্রথম ম্যাচের তুলনায় কিছুটা দৃষ্টিনন্দন ফুটবল উপহার দিলেও ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে আটকে গেল সেলেকাওরা। ম্যাচের ফলাফলে হতাশ অনুরাগীদের থেকে বিদ্রুপও শুনতে হল ব্রাজিল ফুটবলারদের।

যদিও এদিন ভিএআরের সাহায্য নিয়ে দু’টি ক্ষেত্রে অফসাইডের কারণে ব্রাজিলের গোল বাতিল করেন রেফারি। কিন্তু বাকি সময়টা ভেনেজুয়েলা রক্ষণের ডেডলক ভেঙে তিনকাঠিতে বল রাখতে ব্যর্থ গ্যাব্রিয়েল জেসুস, রবার্তো ফিরমিনোরা। ড্রয়ের পরও গ্রুপ ‘এ’ থেকে আপাতত শীর্ষেই রইল ন’বারের কোপা চ্যাম্পিয়নরা। চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের অপর দল পেরু একই মেরুতে অবস্থান করলেও গোল পার্থক্যে শীর্ষে রইল তিতের দল। এদিন গ্রুপের অপর ম্যাচে বলিভিয়াকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে পেরু। আগামী শনিবার গ্রুপ নির্ণায়ক ম্যাচে পেরুর মুখোমুখি হবে সেলেকাওরা।

আরও পড়ুন: মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপের দিনক্ষণ ঘোষিত

ফঁতে নোভা এরিনায় এদিন ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ভেনেজুয়েলার জালে বল রাখেন ব্রাজিল ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল জেসুস। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সাহায্য নিয়ে জেসুসের সেই গোল বাতিল করেন রেফারি। কারণ হিসেবে জানানো হয় জেসুসের উদ্দেশ্যে পাস বাড়ানোর সময় অফসাইডে ছিলেন আরেক ফরোয়ার্ড রবার্তো ফিরমিনো। রিপ্লেতে দেখা যায় বিপক্ষ এক ডিফেন্ডারের পায়ে প্রতিহত হওয়া বল ধরে পাস বাড়ানোর মুহূর্তে লিভারপুল স্ট্রাইকার অফসাইড পজিশনে ছিলেন। প্রতিবাদ জানিয়েও লাভের লাভ কিছুই হয়নি।

আরও পড়ুন: নিরাপত্তার বেষ্টনী টপকে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে হানা ক্রিকেট অনুরাগীর

ম্যাচ শেষের ঠিক পাঁচ মিনিট আগে দ্বিতীবারের জন্য নাকচ হয় ব্রাজিলের গোল। এক্ষেত্রে বক্সের মধ্যে মিডফিল্ডার কুটিনহোর ক্লোজ রেঞ্জ শট জালে জড়ানোর আগে অফসাইড পজিশনে দাঁড়িয়ে থাকা ফিরমিনোর পায়ে তা প্রতিহত হয়। এর আগে প্রথমার্ধে বক্সের মধ্যে বিপক্ষ এক ডিফেন্ডারকে টেনে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে ফিরমিনোর একটি গোল বাতিল করেন রেফারি। অর্থাৎ এদিন ব্রাজিলের বাতিল হওয়া প্রত্যেকটি গোলের নেপথ্যেই ছিলেন লিভারপুল স্ট্রাইকার।

আরও পড়ুন: ‘কাতারগেট’ কাণ্ডে গ্রেফতার প্লাতিনি

প্রথম ম্যাচে বলিভিয়ার বিরুদ্ধে প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থায় শেষ করার পর ব্রাজিল ফুটবলারদের বিদ্রুপ শুনতে হয়েছিল। যদিও ম্যাচ জয়ের পর সব ধামাচাপা পড়ে যায়। তবে সালভাডরে এদিন প্রায় ৪২ হাজার সমর্থক দলের পারফরম্যান্সে হতাশ হয়ে ম্যাচ শেষের কয়েকমিনিট আগে থেকেই দলের ফুটবলারদের বিদ্রুপ করা শুরু করেন। পাশাপাশি সমর্থকদের রোষের মুখে পড়েন কোচ তিতেও। ক্যাশেমিরোর বদলি হিসেবে আক্রমণাত্মক হওয়ার বদলে ব্রাজিল কোচ এদিন ডিফেন্সিভ মিডিও ফার্নান্দিনহোকে মাঠে নামান। যা একেবারেই না-পসন্দ ছিল সমর্থকদের।