কিশোর শীল: তিনটি ঘটনা৷ তিনটি মুহূর্ত৷ আর এই তিন মুহূর্তের ছবি নিয়েই দিল্লির কথা৷ এমন এক শহর, যার সম্পর্কে প্রথমে বলতেই হয় দিল হ্য়ায় তো দিল্লি হ্যায়৷ তবে ওই দিল অর্থাৎ হৃদয়ে এখন ঘন কালো ধোঁয়া৷ এতে মিশে রাজনীতি ও দূষণ৷ পরিস্থিতি এমনই৷

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনবহুল নগরীর অবস্থা দিনের পর দিন আরও খারাপ থেকে খারাপতর হয়ে চলেছে। এমনিতেই বাতাসে বিষ নিয়ে খবরের শিরোনামে রাজধানী। আর তার মধ্যে তিসহাজারি কোর্টের পুলিশ-আইনজীবীদের মধ্যেকার সংঘর্ষে রীতিমতো উত্তাল দিল্লি।

সাধারণ মানুষের রক্ষক, দুষ্টের দমন করে শিষ্টের পালন করা যার দায়িত্ব সেই পুলিশই আজ ন্যায় বিচারের দাবিতে রাস্তায় দাঁড়িয়েছে। মিডিয়ার দৌলতে দেশ তথা বিশ্বের অন্য প্রান্তেও পৌঁছচ্ছে দিল্লির এই চিত্র। সমাজের অন্যতম দুই স্তম্ভ উকিল ও পুলিশের এই সংঘাত প্রতি সন্ধ্যায় বেশ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছে দেশবাসী। গরম চা-এর সাথে মুচমুচে খবর। দেশের অন্যতম প্রধান শহর তথা রাজধানীর ‘ভালো’ চিত্রই বিশ্বের কাছে ফুটে উঠছে বটে।

পুলিশকর্মীদের এই আন্দোলন কি একেবার অন্যায্য? তাও বা বলা যাচ্ছে কই । শনিবারে আইনজীবী আর পুলিশের খণ্ডযুদ্ধে রীতিমতো রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল তিস হাজারি কোর্ট। পুলিশের অভিযোগ তাদেরকে বেধড়ক মার মেরেছে আইনজীবীরা। সেই ঘটনার কিছু সিসিটিভি ভিডিও সামনে এসেছে। অন্যদিকে আইনজীবীদের বক্তব্য, তাদের ওপর গুলি চালিয়েছে পুলিশ। সব মিলিয়ে আইনের দুই রক্ষাকর্তার সংঘর্ষে রীতিমতো বেবাক বনেছে সাধারণ মানুষ।

এই মারমার কাটকাটের মধ্যে দিল্লিবাসীর দিল পুড়ছে বিষ ধোঁয়ায়৷ প্রবল বায়ু দূষণে তাদের স্বাস্থ্য ও জনজীবনে যা যা সব থেকে প্রভাব ফেলেছে তা হল দিল্লির বাতাসের বিষ। এই বিষের মধ্যে থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার কাজটা হয়ত খুব একটা সহজ হচ্ছে না ৷ বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে এখানকার বাতাস স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

দূষণের দায় কার তা নিয়েও চলছে ঠেলাঠেলি। সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে পড়শি রাজ্য হরিয়ানা ও পাঞ্জাব থেকে ফসল পোড়ানোর ধোঁয়া জাঁকিয়ে বসেছে শহরের ওপরে। শুধুমাত্র তার ফলেই কি ধোঁয়ার অন্ধকার ঘনাতে পারে শহরে। জানা গিয়েছে এর মাঝে টানা ৫ দিন সূর্য উঠলেও মাটিতে এসে আলো পোঁছাতে পারেনি, দূষণের তীব্রতা এতটাই। আমাজনের ভয়ঙ্কর জঙ্গলে যেমন সূর্যের আলো এসে প্রবেশ করতে পারে না৷ তবে সেটা ঘন অরণ্যের কারণে৷ আর দিল্লির বাতাসে এখন ঘন মনোক্সাইডের চাদর৷ ফলে এ এক ভয়ঙ্কর শহর।

শয়ে শয়ে মানুষ শহরের রাস্তায় হাঁটছেন মাস্ক পরে। হঠাৎ দেখলে চমকে উঠতে হয় বুঝিবা বেভুল পথেই হাজির হওয়া গেছে ত্রয়োবিংশ শতকে। যেখানে মানুষ নয়, রোবট দৌড়চ্ছে চারিদিকে।

আইনের রক্ষাকর্তাদের নিরাপত্তা নেই। সাধারণ মানুষের শান্তিতে নিশ্বাস নিতে পারার মতো অক্সিজেনটুকুও নেই। কিন্তু কিছুই কি নেই? শুধু শহরটা আছে। সারি সারি সিমেন্টের বৃক্ষ রয়েছে চতুর্দিকে। আর আছে সরকার, আছে ভোট, মাইকে জোরে জোরে ভাষণ আর প্রতিশ্রুতি। তবে শহরের যা হাল সেসবও আর কতদিন থাকবে তা বলা যাচ্ছে না।

খুব ভালো নেই দিল্লি৷