সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : মেয়েটির পুরো নাম সাসাকি সাদাকো। হিরোশিমায় যেদিন বোমা পড়লো তখন তার বয়স মাত্র দুই। হিরোশিমার সুন্দর পরিবেশে সাদাকো একটি ছোটপাখির বড় হচ্ছিল। সেদিনও সাদাকো হয়তো ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে তোমাদের সুন্দর স্বপ্ন দেখছিল।

সকালেই বদলে যায় সম্পূর্ণ দৃশ্য। ঘটনাস্থল থেকে সাদাকোদের বাড়ি ছিল মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে। সাদাকো ঘরেই ছিল। বোমার ঝাপটায় সাদাকো-সহ ঘরের সবকিছু ছিটকে বেরিয়ে যায়। মা ভেবেছিলেন মেয়ে শেষ। গিয়ে দেখেন সুস্থ স্বাভাবিক রয়েছে মেয়ে।

স্বাভাবিক ভাবেই বড় হয়ে উঠছিল সাদাকো। ১২ বছর বয়সে সাদাকোর এক রোগ স্পষ্ট হয়। লিউকোমিয়া। এই রোগের নাম স্থানীয় নাম ছিল এটম বোম রোগ। একই রোগে অনেক শিশু মারা যাচ্ছিল। সাদাকো এই খবর জানতো। সাদাকোর বন্ধু এসে বলেছিল কাগজ দিয়ে ১ হাজার সারস পাখি বানাতে কারণ জাপানিরা বিশ্বাস করে সারস পাখি ১০০ বছর বাঁচে। সাদাকো বাঁচতে চাইল।

বন্ধুর কথা বিশ্বাস করে কাগজ দিয়ে এক এক করে সারস পাখি বানানো শুরু করলো। ৫শ সারস বানানোর পর সাদাকো সুস্থ অনুভব করলো। ডাক্তার হাসপাতাল থেকে বাড়ি যাবার অনুমতি দিল। কিছুদিনের মধ্যেই আবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হল। সারস পাখি বানানো শুরু করলো। ৬৪৪ টা পর্যন্ত বানিয়ে আর পারলো না।

তবে স্কুলের বন্ধুরা সাদাকোকে অমর করতে চাইলো। ১ হাজার সারসের বাকী সংখ্যাটা পূরণ করতে ৩৫৬টি সারস বানিয়ে বন্ধুরা সাদাকোর কবরে দিয়ে আসবে এটাই প্ল্যান। এই খবর দেশবিদেশে ছড়িয়ে গেলে বিশ্বের ৩ হাজার ১শ টি স্কুল তাদের ডাকে সারা দিল। মিলিয়নস অব সারস পাখি সাদাকোর কবরে স্থান পেল।

৩ বছরের মাথায় স্কুল ছাত্রদের উদ্যোগে ফান্ড তৈরি হল। সেই ফান্ড দিয়ে তৈরি হল একটি মনুমেন্ট। ‘হিরোশিমা পার্ক’-এর ভিতর, বোমা যেখানে পড়েছিল, তার পাশেই। মনুমেন্টে লেখা শিশুদের স্লোগান – ‘This is our cry, This is our prayer, Peace in the world”। আজও সেই পার্কে গেলে শোনা যায় এমন বহু সাদাকোদের আর্তনাদ।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।