লন্ডন: হ্যারিস সোহেলের বিধ্বংসী ব্যাটিং, বোলারদের উজ্জ্বল পারফরম্যান্সে দক্ষিন আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৪৯ রানে জয়। রবিবার অভিজাত লর্ডসে এই জয় বিশ্বকাপের নক-আউটে যাওয়ার বিষয়ে আশা জিইয়ে রেখেছে পাকিস্তানের। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ হারের পর দলের ছেলেদের এহেন কামব্যাক পারফরম্যান্সে যারপরনাই খুশি পাকিস্তান কোচ মিকি আর্থার। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে আর্থার জানালেন, দলের এই পারফরম্যান্স এবার কিছু মানুষের মুখ বন্ধ করবে।

রবিবার ম্যাচ জয়ের পর আর্থার জানান, ‘দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে ছেলেরা কী করতে পারে সে বিষয়ে আমার ধারণা আছে। গত সপ্তাহে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, সোশাল মিডিয়া সর্বোপরি অনুরাগীদের কাছে প্রবল সমালোচিত হয়েছে ছেলেরা। আশা করি আমাদের আজকের পারফরম্যান্স তাদের বাহবা কুড়োবে এবং অবশ্যই দিনকয়েকের জন্য কিছু মানুষের মুখ বন্ধ হবে।’ একইসঙ্গে সরফরাজদের দক্ষিণ আফ্রিকাজাত কোচের কথায় দল এখনও ভীষণভাবে সেমিফাইনালের দৌড়ে রয়েছে এবং নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পরবর্তী ম্যাচেও জয়ের ধারা বজায় রাখবে।

আরও পড়ুন: প্রোটিয়াদের হারিয়ে সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে রইল পাকিস্তান

আর্থারের কথায়, ‘আমি জানি আমরা নিউজিল্যান্ডকে হারাতে সক্ষম। নিঃসন্দেহে আমরা টুর্নামেন্টের দৌড়ে দারুণভাবে টিকে রয়েছি। আমরা আমাদের সেরা খেলাটা উপহার দিলে যে কোনও দলকে হারাতে প্রস্তুত। তা সে নিউজিল্যান্ড হোক, আফগানিস্তান হোক কিংবা বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আমরা সেটা প্রমাণ করেছি।’ পাশাপাশি ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং তিনটি ক্ষেত্রে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরতে পারলে পাকিস্তান টুর্নামেন্টে যে কোনও শক্তিশালী দলের সমতুল্য বলে মত আর্থারের। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দলের ব্যাটিং-বোলিং উচ্চমানের হলেও ফিল্ডিং মোটেই আহামরি হয়নি, স্বীকার করে নিলেন পাক কোচ।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে ইতিহাস ইমরান তাহিরের

পাশাপাশি দলে ফিরে ৫৯ বলে ৮৯ রানের ইনিংসের পর হ্যারিস সোহেলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মিকি আর্থার। পাক কোচের কথায়, ‘আমি আগেও বলেছি ও দলের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের একজন। ব্যাট হাতে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুণ রয়েছে ওর মধ্যে। তবে হ্যারির আজকের ইনিংসটা ব্যতিক্রমী ভালো।’

সোহেলের ৮৯, বাব্র আজমের অর্ধশতরানে রবিবার প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে স্কোরবোর্ডে ৩০৮ রান তলে পাকিস্তান। জবাবে পাক বোলারদের দাপটে ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৫৯ রানের বেশি তুলতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩টি করে উইকেট নেন ওয়াহাব রিয়াজ ও শাদাব খান। মহম্মদ আমের পান ২টি উইকেট। শাহিন আফ্রিদির ঝুলিতে ১টি উইকেট। এই জয়ের ফলে ৬ ম্যাচ পর ৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করে বিশ্বকাপে নক-আউটে যাওয়ার আশা টিকে থাকল সরফরাজ অ্যান্ড কোম্পানির।