লন্ডন: চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের মুখোমুখি সাক্ষাতে পাকিস্তানের পাল্লা যতই ভারি থাক। বিশ্বকাপ এলেই বরাবর তা বাঁক নেয় ভারতের অনুকূলে। বিশ্বক্রিকেটের মেগা ইভেন্টে এযাবৎ ছ’বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দেশ। কিন্তু প্রতেকবারই যুযুধান দুই প্রতিপক্ষের লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে ভারত। দ্বাদশ বিশ্বকাপে সেই মিথ ভেঙে কাঙ্খিত জয় তুলে নেবে পাকিস্তান। আশাবাদী সেদেশের নির্বাচক প্রধান তথা প্রাক্তন অধিনায়ক ইনজামাম-উল হক।

রাউন্ড রবিন লিগের ম্যাচে আগামী ১৬ জুন ম্যাঞ্চেস্টারে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান। সেই ম্যাচেই বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ইতিহাস বদলাবে পাকিস্তান, মনে করেন ইনজামাম। একইসঙ্গে বিশ্বকাপে ভারত-পাক ম্যাচের উন্মাদনা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে পাকিস্তানের এক ক্রিকেট ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন পাক অধিনায়ক বলেন, ‘অনুরাগীদের কাছে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের গুরুত্ব সবসময়ই আলাদা। কেউ কেউ তো আবার বলেন বিশ্বকাপে শুধুমাত্র ভারতকে হারাতে পারলেই আমরা খুশি।’ পাশাপাশি আসন্ন বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে প্রতীক্ষিত জয় তুলে নেওয়ার ব্যাপারে যে তিনি ভীষণ আশাবাদী, জানান ১৯৯২ বিশ্বজয়ী দলের সদস্য।

ক্রিকেটের মেগা ইভেন্ট শুরুর আগে টানা ১০টি ওয়ান-ডে’তে পরাজয়, এমনকি প্রস্তুতি ম্যাচেও হারতে হয়েছে আফগানিস্তানের কাছে। কিন্তু তাতে বিশেষ উদ্বিগ্ন নন সেদেশের নির্বাচক প্রধান। এব্যাপারে তাঁর সংযোজন, ‘শুধুমাত্র ভারতের বিরুদ্ধে জয়ই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের একমাত্র লক্ষ্য নয়। অন্যান্য শক্তিশালী দেশগুলোকে হারানোর মতও যথেষ্ট ক্ষমতা আমাদের আছে।’

শেষ মুহূর্তে জুনেইদকে সরিয়ে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ওয়াহাব রিয়াজের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তাঁকে শুনতে হয়েছে বিস্তর সমালোচনা। কিন্তু এব্যাপারে বছর ঊনপঞ্চাশের ইনজামাম জানান, ‘মানুষ ভাবে বিশ্বকাপের জন্য ১৪-১৫ জনকে বেছে নেওয়া খুবই সহজ ব্যাপার। কিন্তু একেবারেই তা নয়। ফাস্ট বোলিং অপশন হিসেবে বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পাওয়ার প্রশ্নে মহম্মদ আমির, জুনেইদ খান, উসমান খান শিনওয়ারির মত নাম ছিল। তাঁদের মধ্যে থেকে সেরাদের বেছে নেওয়াটা চ্যালেঞ্জ ছিল।’

একইসঙ্গে বিশ্বকাপে মহম্মদ হাসনাইনের নির্বাচনের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে প্রাক্তন পাক অধিনায়ক বলেন, ‘বাকি বোলাররা যেখানে ১৩০-১৪০ গতিবেগের মধ্যে ঘোরাফেরা করে, সেখানে ওর ১৫০ কিমি বেগে বলের গতি দলের ফাস্ট বোলিং অপশনে আলাদা মাত্রা যোগ করবে।’