প্রতীকী ছবি

কলকাতা: নিখোঁজ দাবি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন স্বামী। আর তারপরেই ভিডিওতে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছিলেন চুঁচুড়ার বাসিন্দা প্রতিমা মণ্ডল নামে ওই গৃহবধূ। আর এরপরে ফের একবার বিস্ফোরক অভিযোগ নিয়ে ভিডিও শেয়ার করলেন টিকটক খ্যাত ওই গৃহবধূ। অভিযোগ করলেন, ভাসুর তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করত। আর স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মদতে এই ঘটনা ঘটত বলেই দাবি তাঁর।

উল্লেখ্য, হুগলির লটারি বিক্রেতা প্রসেনজিৎ মণ্ডল ওরফে বাবুর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল প্রতিমার। তাঁদের এক কন্যাসন্তানও রয়েছে। জেসমিন নামে টিকটকে অ্যাকাউন্ট খুলে দিব্যি আয় করছিলেন ওই গৃহবধূ। আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে জনপ্রিয়তা। এতে উৎসাহ যোগান স্বামীও। স্ত্রী রোজগারও করছিলেন টিকটক থেকে।

স্বামীকে জানিয়েই বিভিন্ন রাজ্যে যেতেন ভিডিও শ্যুট করতে। স্বামী কখনও বাধাও দেননি। টিকটক থেকে রোজগার হচ্ছে দেখে আরও একটি মোবাইল কিনে দেন বাবু। এমনকি বাবু নিজেও কখনও সখনও প্রতিমার টিকটক ভিডিও-তে অংশগ্রহণ করতেন। সবসময় যে স্বামী তাঁর সঙ্গে যেত, তা মোটেই না।

৩১ তারিখ হাওড়া থেকে ট্রেনে চেপে দিল্লি যান প্রতিমা। তাঁর স্বামী দাবি করেন, ভিকি নামে এক যুবক তাঁকে র‍্যাম্পে হাঁটার অফার দেয়। রাজধানীতে পৌঁছনোর পর থেকে আর সেভাবে যোগাযোগ করতে পারেননি বাবু। ২-৩ দিন পর মোবাইল ফোন অন করে বাবুকে ফোন করে তাঁর স্ত্রী প্রতিমা জানান, নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে যোগাযোগ করে উঠতে পারেননি।

কথা ছিল ৩-৪ তারিখ নাগাদ প্রতিমা ফিরে আসবেন। বাবুর অভিযোগ করেন, স্ত্রীকে মডেলিং করার টোপ দেখিয়ে দিল্লি নিয়ে গিয়েছেন ভিকি। এরপরে থানায় অভিযোগ দায়ের করে বাবু। কিন্তু সত্যিই কেউ তাঁর স্ত্রীকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গেছে কিনা তা নিয়ে তৈরি হয় ধন্দ। প্রতিবেশীরা দাবি করেন, এর আগেও একাধিকবার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান ওই গৃহবধূ। বারবারই পুলিশের দ্বারস্থ হন স্বামী। তারপরই আবার খোঁজ মেলে প্রতিমার।

ফোন করে প্রতিমা তাঁর মায়ের কাছে দাবি করে তাঁর শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারেই ঘর ছেড়েছে সে। দিল্লিতে গিয়ে সে ভালো আছে বলেও প্রথম ভিডিওতে দাবি করেন তিনি। আর তারপরের ভিডিও-তে স্বামী সহ শ্বশুর বাড়ির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সরব হলেন টিকটকের গৃহবধূ।