হংকং সিটি: অবশেষে বিক্ষোভকারীদের কাছে নতি স্বীকার। প্রবল চাপের মুখে পড়ে বিতর্কিত নাগরিক প্রত্যর্পণ বিলটি তুলে নেওয়ার কথা জানিয়েছে হংকং প্রশাসন।

এই বিল আইনে পরিণত হলে চিন সরকার ইচ্ছে মতো হংকং থেকে যে কাউকে গ্রেফতার করে নিজেদের মতো বিচার করতে পারত। এটা চিনের আগ্রাসী নীতি এমনই অভিযোগে শুরু হয়েছিল বিক্ষোভ।

কারণ একদা ব্রিটিশ কলোনি হংকে পরে চিনের অংশ হয়েছে। তবে হংকংয়ে চিনা আইন খাটে না। এখানকার জনগণ চিনে প্রচলিত কড়া আইনের তুলনায় অনেক স্বাধীনতা পান।

বেজিংয়ের তরফে বলা হয়েছিল, হংকংয়ে থাকা কোনও অপরাধীকে বিচারের জন্য চিনে প্রচলিত আইনের আওতায় আনতে হবে। তার জন্য ওই অপরাধী যদি হংকং শহরে থাকে তাহলে তাকে প্রত্যর্পণ করতে হবে।

হংকংয়ের প্রশাসক ক্যারি ল্যাম। তিনি চিনের ঘনিষ্ঠ বলেই বিক্ষোভকারীদের দাবি। চাপের মুখে তিনি প্রত্যর্পণ বিলটি তুলে নেওয়া হচ্ছে বলেই জানান।

হংকং নিবাসীদের দাবি, চিনে তৈরি ওই প্রত্যর্পণ বিল অনুমোদন হলেই চিনা বিরোধীদের উপর প্রবল চাপ আসবে। এমনকি চিনে নিয়ে গিয়ে শুরু হবে বিচারের নামে অত্যাচার। আরও বলা হয়, বিলটি দিয়ে চিন সরকার হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নিতে চাইছে।

ফলে বিক্ষোভ বাড়তে থাকে। গত এপ্রিল মাস থেকে বারে বারে অচল হয়ে যায় হংকং। স্থানীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল জনমত সংঘটিত হয়। বিশ্বের অন্যতম বাণিজ্য নগরী ও বিমানবন্দর, জাহাজ বন্দরের কাজ স্থগিত হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যাত্রী পরিবহণে বিরাট ধাক্কা পড়ে। কারণ হংকং গোটা দুনিয়ার অন্যতম যাত্রী পরিবহণ কেন্দ্র।

বিতর্কিত বিলটি লাগু হচ্ছে না। এই ঘোষণার পর হংকঙের স্থানীয় সরকার ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি যে রকম হয়েছিল সেটা কিছুটা হাল্কা হবে। এমনই রিপোর্ট দিচ্ছে বিবিসি, আল জাজিরা, এপি, ও চিনের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম।

বিক্ষোভকারীদের আরও দাবি, হংকং সরকার যদি ঘোষণার নড়চড় করে তাহলে আবারও অবরুদ্ধ করে দেওয়া হবে সবকিছু।