হংকং সিটি ও বেজিংঃ পূর্ব এশিয়ার আকাশপথ প্রায় বিচ্ছিন্ন। কারণ সরকার বিরোধী আন্দোলনের জেরে হংকং বিমান বন্দর অচল হয়ে গিয়েছে। এর জেরে সব রকম আন্তর্জাতিক উড়ান বন্ধ করা হল। পরিস্থিতি ক্রমে হিংসাত্মক আকার নিতে চলেছে। এই আশঙ্কায় গুরুত্বপূর্ণ এই বিমানবন্দর আপাতত বন্ধ থাকায় হাজারে বেশি যাত্রীরা আটকে পড়েছেন।

সংবাদ সংস্থা আল জাজিরা, বিবিসি জানাচ্ছে এই খবর। তাদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, মাস দুয়েক আগের কথা। চিনের বন্দি প্রত্যর্পণ সম্পর্কিত প্রস্তাবিত আইনকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয় স্বশাসিত এলাকা হংকংয়ে। এটি পরে তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ চেহারা নিচ্ছে।

যে কারণে বিক্ষোভ-

প্রস্তাবিত নতুন আইনে বলা হয়েছে, চিনে কোনও অপরাধ করে এসে কেউ যদি হংকংয়ে পালিয়ে আসে, তাহলে তাকে গ্রেফতার করে ফের চিনে নিয়ে গিয়ে বিচার করা হবে। আর হংকংবাসীর পাল্টা দাবি, এই আইন হলে চিন তা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে। এবং সেটি হংকংয়ের ক্ষেত্রে হবে চাপিয়ে দেওয়া নীতি।
বিক্ষোভের মুখে হংকং প্রশাসন বিলটি স্থগিত করে। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের দাবি প্রস্তাবিত আইনটি পুরোপুরি বাতিল করতে হবে।

একনজরে হংকং:

হংকং চীনের একটি ভূখণ্ড। ১৯৯৭ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে চিনা শাসনে আসে এই ভূখণ্ড। চিনের অধীনে থাকলেও এর আলাদা শাসন ব্যবস্থা রয়েছে। ছোট এলাকা হলেও বিরাট অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত হংকং।

এখানকার বাসিন্দারা চিনের মূল ভূখণ্ডের চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করেন। হংকংয়ের সংবাদ মাধ্যম এবং বিচার ব্যবস্থা চিনের মতো সরকার নিয়ন্ত্রিত নয়। অনেক বেশি স্বাধীন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন পরিস্থিতিতে হংকংয়ের নাগরিকদের দাবি, তাদের এই স্বাধীনতা ধীরে ধরে হরণ করা হচ্ছে।এই দ্বন্দ্ব থেকেই হংকং ও চিনের মধ্যে দ্বৈরথ নতুন করে প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন : ভাগাভাগি নয়, স্থায়ী সমাধান হোক দার্জিলিঙে: দিলীপ ঘোষ

সোমবার থেকেই হংকং বিমানবন্দরের চারিপাশে শয়ে শয়ে বিক্ষোভকারী অবস্থান নিয়েছেন। প্রশাসন তাদের সামাল দিতে গলদঘর্ম। মঙ্গলবারের পরিস্থিতি আরও জটিল। একের পর এক বিমান বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের ভিড়েও হংকং এয়ারপোর্টে তিল ধারণের জায়গা নেই।

রবিবার পরিস্থিতি ছিল তীব্র সংঘর্ষময়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস চার্জ করে। তাতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর পর থেকে বিক্ষোভকারী ও হংকং সরকারের মুখোমুখি অবস্থান বিরাট আকার নিতে শুরু করে।

বিবিসি জানাচ্ছে, হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত উড়ান পথের কেন্দ্র। ২০১৮ সালে এই বিমানবন্দর দিয়ে সাড়ে সাত কোটি যাত্রী যাতায়াত করেছে। এদিকে চিন সরকার সোমবার হংকংয়ের বিক্ষোভকারীদের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছে।