সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: জরুরী পরিষেবা দিয়েই এনআরএসের জুনিয়র চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়াচ্ছে সারা ভারত হোমিয়োপ্যাথি সংগঠনও। তারাও বুধবার কর্মবিরতির দাক দিয়েছে। তবে বন্ধ রাখা হবে শুধুমাত্র ‘আউটডোর’। জরুরী পরিষেবার কাজ চলবে। সংগঠনের পক্ষে জানানো হয়েছে মানুষের সঙ্গে থেকে এই প্রতিবাদ তারা করতে চাইছেন। মানুষের অসুবিধা করে নয়।

মঙ্গলবার ১১ জুন অল ইন্ডিয়া হোমিওপ্যাথিক স্টুন্ডেস এন্ড ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের তরফে কলকাতার এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে জুনিয়র ডাক্তারদের উপর আক্রমণ এর কড়া নিন্দা করা হয়। ওই দিন সংগঠনের পক্ষ থেকে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ডাক্তার নার্সদের নিরাপত্তার দাবি উঠে আসে।

এই দাবিকে সামনে রেখেই বুধবার সকাল থেকে সমস্ত আয়ুর্বেদিক এবং হোমিওপ্যাথিক কলেজ ও হাসপাতালের বহিঃবিভাগ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে জরুরী পরিষেবা বাদ রেখেই চলবে এই প্রতিবাদ।

মঙ্গলবারেই এদিন সমস্ত বিকল্প চিকিৎসার ব্যবস্থাপক আয়ুষ ডাক্তারদের সংগঠনের সম্পাদক ডাঃ কিংশুক গোস্বামী বলেন , “আমরা সংগঠনের তরফ থেকে ডেন্টাল, আয়ুষ দফতরসহ সমস্ত চিকিৎসা পদ্ধতি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে বারবারই বলছি জরুরী পরিষেবা দেওয়া হবে। কিন্তু চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন নিয়েই আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা চাই বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে রাজ্য সরকারকে যোগ্য জবাব দেওয়া।”

এদিকে সকাল থেকে কার্যত বন্ধ নীলরতন সরকার হাসপাতাল। একদিকে অবস্থান বিক্ষোভে বসে জুনিয়র ডাক্তাররা, অন্যদিকে রোগীদের চিকিৎসা করাতে এসে হিমশিম অবস্থা পরিজনদের। কথা ছিল, ১২ ঘণ্টা আউটডোর পরিষেবা বন্ধ থাকবে। কিন্তু এনআরএসে বন্ধ রয়েছে জরুরি পরিষেবাও। শুধু কী তাই, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরাও শুশ্রুষা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

এনআরএসের ঘটনার প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে গোটা রাজ্যের হাসপাতাল পরিষেবা। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ, শিশু মঙ্গল, আর জি কর, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-সহ একাধিক হাসপাতালে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন ইন্টার্নরা। এর ফলে রাজ্য জুড়ে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা পরিষেবা। ভোগান্তি বাড়ছে রোগী ও তাঁদের পরিবারের।

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার রাতে। ট্যাংরার বাসিন্দা মহম্মদ সইদকে রবিবার হাসপাতালে ভরতি করানো হয়েছিল। সোমবার দুপুরেও রোগীর অবস্থা ভাল ছিল বলে দাবি ছিল পরিবারের। বিকেলের পর থেকে পরিস্থিতির অবনতি হয়। সোমবার রাতে ওই রোগীর মৃত্যু হয়।

এরপর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এনআরএস চত্বর। রোগীর পরিজনরা জুনিয়র চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। হামলায় এক জুনিয়র চিকিৎসকের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। অপর একজনেরও আঘাত লাগে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে মল্লিকবাজারের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

তারপর থেকেই এনআরএসের মূল গেটে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ। ফলে সেদিন রাত থেকে যাঁরা হাসপাতালে এসেছেন পরিষেবার জন্য, তাঁরা ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি এখনও বহাল রয়েছে।